বেঙ্গল সাফারি থেকে নতুন বন-পথে ভোরের আলোয়, উদ্যোগী রাজ্য পর্যটন দপ্তর - 24 Ghanta Bangla News
Home

বেঙ্গল সাফারি থেকে নতুন বন-পথে ভোরের আলোয়, উদ্যোগী রাজ্য পর্যটন দপ্তর

Spread the love

এই সময়, শিলিগুড়ি: নয়া রাস্তায় খুলে যেতে পারে শিলিগুড়ি কেন্দ্রিক পর্যটন-সম্ভাবনা। শালুগাড়ার বেঙ্গল সাফারি থেকে ভোরের আলো পর্যন্ত নতুন পথ তৈরি করতে চাইছে রাজ্য পর্যটন দপ্তর। এতে সফরের সময় ও খরচ অনেকটাই কমে যাবে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে যদি পর্যটন সার্কিট গড়ে তুলতে হয়, তা হলে তার মধ্যমণি হতে পারে বেঙ্গল সাফারি। তার দোসর বলা যেতে পারে গজলডোবাকে। পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে এই দু’টি স্পটে। গজলডোবা থেকে সহজে যাওয়া যায় ভোরের আলো পর্যটনকেন্দ্রে। তিস্তা ব্যারাজ, ঘন অরণ্যের ঘেরাটোপ ও পরিযায়ী পাখিদের নিয়ে ভোরের আলো অবশ্য এমনিতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু, এখান থেকে বেঙ্গল সাফারির যোগাযোগের রাস্তা মোটেই সরল নয়। শিলিগুড়ি শহর থেকে সেবক রোড হয়ে সাফারিতে যেতে হয়। এর পরে ভোরের আলো যেতে হলে শিলিগুড়ি ফিরতেই হবে, সোজাসুজি যাওয়া যাবে না। ইস্টার্ন বাইপাস, গোরা মোড়, সাহুডাঙি আমবাড়ি হয়ে পৌঁছতে হয় সেখানে। বেঙ্গল সাফারি থেকে ভোরের আলো পৌঁছতে প্রায় ৩২ কিমি পথ পাড়ি দিতে হয়। এই জটিল পথে অনেকটা সময় চলে যায় পর্যটকদের।

এই সমস্যা দূর করতে চাইছে পর্যটন দপ্তর। কী ভাবছেন মন্ত্রী? বেঙ্গল সাফারি থেকে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ভোরের আলো পর্যন্ত নতুন রাস্তা তৈরি করতে চাইছেন তিনি। ইতিমধ্যেই শঙ্কর ঘোষ বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুধু নয়, আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। কোন জায়গায় তৈরি হতে পারে রাস্তাটি? বেঙ্গল সাফারি থেকে শিলিগুড়ির দিকে আসার পথে কয়েকশো মিটার এগোলেই বাঁ হাতে একটি রাস্তা ঢুকে যায় অরণ্যের মধ্যে। সেই রাস্তাটি সবুজের বুক চিরে এগিয়ে যাবে। এঁকেবেঁকে সরস্বতীপুর টি এস্টেট হয়ে ভোরের আলো লাগোয়া তিস্তার ক্যানাল পাড়ের রাস্তায় গিয়ে উঠবে। এর ফলে বেঙ্গল সাফারি থেকে খুব দ্রুত ভ্রমণপ্রিয় মানুষ ভোরের আলোয় পৌঁছতে পারবেন। শিলিগুড়ি হয়ে ঘুরপথে যেতে হবে না।

নতুন রাস্তা খুলে গেলে ৩২ কিমির দূরত্ব কমে হবে ১১-১৩ কিমির মতো। অর্থাৎ, এক-তৃতীয়াংশ জার্নি কমে যাবে। এতে সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচবে। তার সঙ্গে উপরি মিলবে অরণ্যের সান্নিধ্য, শিলিগুড়ি শহরের গাড়ির ভিড়, দূষণের চক্করে পড়তে হবে না। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাস্তাটি তৈরি করা গেলে অবশ্যই ভালো হবে। এখন বেঙ্গল সাফারি ঘুরে ভোরের আলো পৌঁছতে চাইলে দিন প্রায় শেষ হয়ে যায়। পর্যটকদের সময় নষ্ট হয়। সফরের তালিকায় কাটছাঁট করতে হয়। আশা করছি এই সমস্যা মেটানো যাবে।’

তবে এই পথ তৈরির প্রস্তাবটি একেবারে নতুন নয়। ২০১৮-তে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। রাস্তাটির জন্য বন বিভাগের অনুমতি মেলেনি। জঙ্গলের ভিতরে একাধিক কাঁচা রাস্তা রয়েছে। প্রস্তাবিত রাস্তাটি গাছ কেটে তৈরি করতে হবে, এমনটা নয়। অরণ্যের কাঁচা রাস্তাটিকেই পাকা করে দিলে যাতায়াতের জন্য তৈরি হয়ে যাবে। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘এই রাস্তাটি তৈরি হলে শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসার পক্ষে ইতিবাচক হবে। অনেকে এই শহরে রাত কাটানোর পরিকল্পনা করতে পারেন। শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকার প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।’

এই প্যাকেজে কোন জায়গাগুলি থাকবে? পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, শিলিগুড়ি থেকে শালুগাড়া মনাস্ট্রি, সেবক কালীমন্দির, মালবাজারের হনুমান মন্দির, ময়নাগুড়ির জল্পেশ শিবমন্দির, বেলাকোপা সংলগ্ন ভ্রামরী দেবীর মন্দিরকে রাখা যেতে পারে প্যাকেজে। শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘পর্যটন, হোটেল ব্যবসায়ীরা এতে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি শিলিগুড়িতে বেশি সংখ্যক পর্যটক এসে থাকতে শুরু করলে সার্বিক ভাবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের পক্ষে তা ইতিবাচক হতে পারে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *