Sravan monday Fasting Diet Tips: শ্রাবণে উপবাস না করলেও দুহাত ভরে আশীর্বাদ করবেন মহাদেব! সোমবারে কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন? | Sravan monday Fasting Rules: What to Eat and Avoid During Sawan Month
শ্রাবণ মাস (Sravan Month) শুরু হতেই চতুর্দিক যেন শিবনামে মুখরিত। দেবাদিদেব মহাদেবকে (Lord Shiva) সন্তুষ্ট করতে ভক্তেরা এই পবিত্র সময়ে নিষ্ঠা ভরে ব্রত পালন করেন। বিশেষ করে শ্রাবণের প্রতি সোমবারে মন্দিরে মন্দিরে উপচে পড়ে পুণ্যার্থীদের ভিড়। অনেকেই সারাদিন নির্জলা উপবাস রেখে ভোলেবাবার মাথায় জল ঢালেন। তবে বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাত্রা কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবার পক্ষে কঠোর উপবাস রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। চিন্তার কিছু নেই, জ্যোতিষ ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্জলা উপবাস না রেখেও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চললেই মিলতে পারে দেবাদিদেবের অশেষ কৃপা।
শাস্ত্র মতে, সোমবারে ভক্তের ভক্তি ও আচার-আচরণই আসল, সেখানে কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নন শিব। তবে এই বিশেষ দিনে আহারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
কী কী খাবেন না?
শ্রাবণের সোমবারে ব্রত পালনের ইচ্ছে থাকলে প্রথমেই কিছু খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।
শস্যদানা নিষিদ্ধ: শাস্ত্রমতে, শ্রাবণের সোমবারে যেকোনও ধরণের শস্যদানা খাওয়া অনুচিত। তাই চাল বা ডাল দিয়ে তৈরি খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই নিয়ম।
আমিষ ও তামসিক আহার নয়: এই দিনে আমিষ খাবার স্পর্শও করা যাবে না। পাশাপাশি পেঁয়াজ ও রসুনের মতো তামসিক উপাদান রান্নায় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
নেশা বর্জন: ব্রত পালনের দিন সমস্ত রকম নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা বাধ্যতামূলক। সম্ভব হলে পুরো শ্রাবণ মাস জুড়েই এই অভ্যাস বজায় রাখা শ্রেয়।
কী কী খাওয়া যেতে পারে?
উপবাস না রাখলেও পেটে খিদে চেপে রাখা শাস্ত্রের উদ্দেশ্য নয়। তাই সহজ পাচ্য কিছু খাবার খাওয়া যেতে পারে।
ময়দার তৈরি পদ: চাল-ডাল বন্ধ থাকলেও ময়দা বা আটার তৈরি পদ যেমন লুচি বা পরোটা খাওয়া যেতে পারে।
নিরামিষ তরকারি: পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া একদম হালকা নিরামিষ তরকারি তৈরি করে খাওয়া যায়।
ফলমূল ও সাবু: ব্রতের দিনে ফলমূল, সাবু, খই অত্যন্ত শুভ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে গণ্য হয়।
শামা চালের ব্যবহার: সাধারণ চালের বদলে শামা চালের ভাত বা খিচুড়ি বানিয়ে আহার করা শাস্ত্রসম্মত।
সৈন্ধব লবণ: রান্নায় সাধারণ লবণের পরিবর্তে সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
শ্রাবণ মাসে সঠিক ভক্তি ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে শারীরিক ও মানসিক শান্তি দুটোই লাভ করা যায়।