দু'ধরনের মেঘের দাপট শহরে, প্রবল বৃষ্টিতে ভাসল দমদম-সল্টলেক
এই সময়: দমদম ১৫৪ মিলিমিটার, সল্টলেক ৫৮ মিমি অথচ মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের আলিপুরে মাত্র ৫.৯ মিমি — সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে বৃষ্টির এমনই অনিয়মিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করলেন আলিপুর হাওয়া অফিসের আবহবিদরা।
তাঁরা জানাচ্ছেন, মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে বৃষ্টিপাতের এমন বিরাট ফারাকের সম্ভাব্য কারণ মহানগরের আকাশে তৈরি হওয়া দু’ধরনের মেঘ। সোমবার শহরের উত্তর–পূর্ব অংশের উপরে তৈরি হয়েছিল অল্প সময়ের মধ্যে প্রবল বর্ষণের উপযুক্ত ‘কিউমুলোনিম্বাস’ এবং বহুক্ষণ ধরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি নামিয়ে চলার কারিগর ‘নিম্বোস্ট্র্যাটাস’ মেঘ। এই কারণেই যখন প্রবল বৃষ্টিপাতে দমদম ও সল্টলেকে জল থইথই অবস্থা, তখন গড়িয়াহাট চত্বর বৃষ্টি শূন্য। শেষ পর্যন্ত শহরের মধ্য ও দক্ষিণে কিউমুলোনিম্বাসের কোনও স্তম্ভ তৈরি না হওয়ায় সেখানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির বেশি কিছু পাওয়া যায়নি।
আলিপুর হাওয়া অফিসের বক্তব্য, দক্ষিণবঙ্গের কাছাকাছি যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছিল, সেটি শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে রাজস্থান থেকে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও ছত্তিসগড়ের উপর দিয়ে একটি মৌসুমি অক্ষরেখা পশ্চিমবঙ্গের উপকূল হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই অক্ষরেখাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার উপর দিয়ে বিস্তৃত। এ ছাড়া, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরে যে ঘূর্ণাবর্তটি অবস্থান করছিল, সেটি কিছুটা জায়গা পরিবর্তন করে ঝাড়খণ্ড এবং সংলগ্ন বিহারের উপরে সরে এসেছে।
একসঙ্গে এতগুলো ওয়েদার সিস্টেমের প্রভাবে সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে স্থলভাগে। বিশেষ করে মৌসুমি অক্ষরেখাটি উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণের দিকে সরে আসায় রাজ্যের দক্ষিণভাগে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। এই কারণেই আপাতত উত্তরে দুর্যোগ কিছুটা কমতে চলেছে, এবং দক্ষিণবঙ্গে সামনের কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি বলে জানানো হয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলি অঞ্চলও বিক্ষিপ্ত বর্ষণে ভিজতে চলেছে।
সোমবার দমদম ও সল্টলেকের সঙ্গে কলকাতার আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্য প্রসঙ্গে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা ‘এই সময়’–কে বলেন, ‘এই মরশুমে আমরা একাধিকবার কিউমুলোনিম্বাস মেঘের দাপটে কলকাতার উপরে ভয়াবহ বজ্রপাত ও অতি অল্প সময়ের মধ্যে তুমুল বৃষ্টি হতে দেখেছি। এই কিউমুলোনিম্বাসের প্রভাবেই সোমবার দমদমে মাইক্রোবার্স্ট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।’
সাধারণত ‘মাইক্রোবার্স্ট’ পরিস্থিতিতে ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আধ ঘণ্টায় ৫০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। দমদম চত্বরে এ দিন এমনটাই হয়েছিল। একই সঙ্গে এ দিন শহরের আকাশ জুড়ে ছড়িয়েছিল ‘নিম্বোস্ট্র্যাটাস’ বা টানা বৃষ্টির মেঘ। ফলে দীর্ঘক্ষণ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পরিবেশও তৈরি হয়েছিল। এই কারণেই সোমবার শহরের বেশিরভাগ এলাকায় অনেকটাই পরে বৃষ্টি শুরু হয়। সেই বৃষ্টির দাপটও খুব বেশি ছিল না।