কোর্ট মার্শাল হবে জিয়া খুনের আসামির - 24 Ghanta Bangla News
Home

কোর্ট মার্শাল হবে জিয়া খুনের আসামির

Spread the love

কুদ্দুস আফ্রাদ, ঢাকা

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি মেজর (অব) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনেই হবে বলে সোমবার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুই আইনে আলাদা ভাবে ট্রায়াল করা যায় না। এই ঘটনায় অন্য অভিযুক্তদেরও বিচার সেনা আইনে হয়েছে। কোর্ট মার্শালের জন্য আমরা সেনাবাহিনীর কাছে তাঁকে হস্তান্তর করেছি। তাঁরা তাঁদের বিধি মোতাবেক জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে সে বিষয়ে পদক্ষেপ করবেন।’

৪৫ বছর বেপাত্তা থাকার পরে গত বুধবার রাতে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়েন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফর হোসেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করে সরাসরি গুলি চালান। ঢাকার এক বাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। ১৯৮১-র ৩০ মে চট্টগ্রামে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি ফেরার ছিলেন।

সূত্রের খবর, সেনা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাঁকে নিয়ে চট্টগ্রামের কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলেন। সূত্রের দাবি, তাঁকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ভূমিকা নয়, বরং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরের নানা ঘটনার নতুন ব্যাখ্যা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে পেতে সহায়ক হতে পারে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর দাবি করেছেন, হত্যাকাণ্ডের পরে বিদেশে গেলেও ১৯৯৮-এ তিনি গোপনে ফিরে দেশেই বসবাস করছিলেন।

মামলা সংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী। হত্যাকাণ্ড শেষে মোজাফফরই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে অভ্যুত্থানটি ব্যর্থ হয়। পরে এ ঘটনায় ১৮ জন সেনাকর্তাকে সামরিক আদালতে বিচার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে দুই সেনাকর্তা মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাঁদের দু’জনকেই ধরিয়ে দিতে সে সময়ে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। জিয়ার হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি তিন দফায় ক্ষমতায় থাকলেও খুনের বিচার নিয়ে সে ভাবে এগোয়নি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *