হেরিটেজ তকমা পেল ‘জলসাঘর’, মুর্শিদাবাদে গেলে ঘুরে দেখুন নিমতিতার জমিদার বাড়ি
কী আশ্চর্য! কী আশ্চর্য! পরে জানা যায়, নিমতিতার চৌধুরী পরিবারের উত্তরপুরুষ উপেন্দ্রনারায়ণের ধাঁচেই বিশ্বম্ভরের চরিত্র এঁকেছিলেন তারাশঙ্কর। তাঁর বিলাসী জীবন, সঙ্গীতপ্রেম আর সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার গল্প লোকমুখে কিংবদন্তির মতো ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা এলাকায়। গল্প আর বাস্তব এসে মিশে গিয়েছিল এক বিন্দুতে।
তবে এই জমিদার বাড়ি তৈরি করেছিলেন গৌরসুন্দর চৌধুরী এবং তাঁর জ্ঞাতিভাই দ্বারকানাথ চৌধুরি। ১৮৬৬-৬৭ সালের দিকে তাঁরা বৃহৎ জমিদারি কিনে গড়ে তোলেন নিমতিতা এস্টেট। সেই এস্টেটের প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়ায় এই প্রাসাদ। ঊনবিংশ শতকের ইউরোপীয় নব্য-শাস্ত্রীয় রীতির সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ির স্থাপত্য এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। কেউ বলেন, ইন্দো-ইউরোপীয় ঘরানার প্রাসাদ। আবার কারও মতে, এতে গ্রিক-ভিক্টোরিয়ান প্রভাব স্পষ্ট।
প্রাসাদের সামনে সারিবদ্ধ সুউচ্চ বিশালাকার স্তম্ভ গোটা বাড়িটাকে ধরে রেখেছে। ভিতরে পাঁচটি উঠোন। প্রায় দেড়শো ঘর। আয়তন আর বিশালতায় রাজবাড়ির সমতুল্য। জমিদারবাড়ির গৃহদেবতা ছিলেন গোবিন্দজি। বসন্তের দোলপূর্ণিমায় গোটা বাড়ি গমগম করত। এই বাড়িতেই ‘হিন্দু থিয়েটার রঙ্গমঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করেন দ্বারকানাথের পুত্র মহেন্দ্রনারায়ণ। প্রথম নাটক হলো ‘আলমগীর’। উপস্থিত ছিলেন নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ি স্বয়ং। ঔরঙ্গজেবের ভূমিকায় তাঁর অভিনয়ের সাক্ষীও এই বাড়ি। ১৯৪৪-এ এক ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে পড়ে পুরো রঙ্গালয়টি। সেই ভাঙন আজও চলছে।
তবে সত্যজিতের হাত ধরেই নিমতিতার জমিদার বাড়ির গায়ে আবার প্রচারের আলো এসে পড়ে ছয়ের দশকে। প্রাসাদের ভগ্নপ্রায় অলিন্দ, সুউচ্চ স্তম্ভ আর নীরব বারান্দা সত্যজিতের ক্যামেরায় হয়ে উঠল এক বিলুপ্ত যুগের প্রতীক। ‘সমাপ্তি’ এবং ‘দেবী’-র শুটিংও হয়েছে এখানেই। নিমতিতার জমিদার বাড়িও সত্যজিতের হাত ধরে হয়ে গিয়েছে অমর।