বড় পরিকল্পনা! মূল রাস্তায় কমবে টোটো, নতুন রুট নীতি আনছে রাজ্য সরকার
কলকাতা: শহর ও জেলা শহরগুলিতে বাড়তে থাকা যানজট কমাতে বড় পদক্ষেপের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে টোটো (ই-রিকশা) মূল সড়ক ও জাতীয় সড়কে নয়, বরং…
কলকাতা: শহর ও জেলা শহরগুলিতে বাড়তে থাকা যানজট কমাতে বড় পদক্ষেপের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে টোটো (ই-রিকশা) মূল সড়ক ও জাতীয় সড়কে নয়, বরং ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ বা যাত্রীদের শেষ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা হিসেবেই ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর।
নতুন এই পরিকল্পনার লক্ষ্য, গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করা এবং শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে যানজট কমানো।
মূল রাস্তায় নয়, চলবে ফিডার রুটে
পরিবহণ দফতরের প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে টোটো মূলত—
• আবাসিক এলাকা থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত,
• রেলস্টেশন থেকে পাড়া বা মহল্লা পর্যন্ত,
• প্রধান বাস করিডর ও গণপরিবহণ কেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগকারী লিঙ্ক ও ফিডার রাস্তায় চলবে।
অর্থাৎ, টোটোকে বাস বা অন্যান্য গণপরিবহণের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক পরিবহণ ব্যবস্থা (Para-transit) হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
কী বললেন পরিবহণমন্ত্রী?
পরিবহণমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, রাজ্য সরকার এমন একটি সমন্বিত পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় যেখানে প্রতিটি যানবাহনের নির্দিষ্ট ভূমিকা থাকবে।
তাঁর কথায়, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে টোটোর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বহু শহর ও জেলা শহরের প্রধান রাস্তায় যানজটের সমস্যা বেড়েছে। তাই টোটোকে মূল সড়কের পরিবর্তে উপযুক্ত ফিডার রুটে পরিচালনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, টোটো সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এগুলি বাস পরিষেবার বিকল্প নয়, বরং গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সহায়ক মাধ্যম হওয়া উচিত।
পুরসভা ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা
পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি শহরে উপযুক্ত ফিডার রুট নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়াও বিবেচনা করা হচ্ছে
• রুট পুনর্বিন্যাস (Route Rationalisation)
• নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা
• যাত্রী ওঠানামার নির্দিষ্ট স্থান
যাতে নতুন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু করা যায়।
কী উপকার হবে?
সরকারের মতে, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে
• প্রধান রাস্তায় যানজট কমবে।
• বাস পরিষেবা আরও দ্রুত চলতে পারবে।
• রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীদের শেষ গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হবে।
• শহরের গণপরিবহণ ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল হবে।
ইতিমধ্যেই বহু সাধারণ পথচারী ও গাড়িচালক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে শহরের ট্র্যাফিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।