সাহারানপুরে জেলা কালেক্টরেট চত্বরে বেআইনি মসজিদ ভাঙার নির্দেশ! সঙ্গে জরিমানা ৬ কোটি
সাহারানপুর: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে (Saharanpur)আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সাড়া পড়ে গেছে। স্থানীয় জেলা কালেক্টরেট চত্বরের ভিতরে অবস্থিত একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ৬…
সাহারানপুর: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে (Saharanpur)আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সাড়া পড়ে গেছে। স্থানীয় জেলা কালেক্টরেট চত্বরের ভিতরে অবস্থিত একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। এই রায় ঘিরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সাহারানপুর জেলা আদালতের এই আদেশে বলা হয়েছে, কালেক্টরেট প্রাঙ্গণের ভিতরে মসজিদটি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে। জমির ব্যবহার সরকারি উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ছিল, সেখানে ধর্মীয় স্থাপনা গড়ে তোলা আইনবিরুদ্ধ। আদালতের নির্দেশ অনুসারে, মসজিদটি অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরিমানার টাকা আদায় করতে হবে।
আরও দেখুনঃ
এই রায়ের পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় স্থাপনার উপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের রায় মেনে চলা হবে। সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ অপসারণ করা আইনের অংশ। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশের আগে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নোটিশের জবাব দেয়নি।এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলো এই রায়কে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে সমালোচনা করেছে। এসপি নেতা অখিলেশ যাদবের ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, “যোগী সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এই ধরনের রায় সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করবে।”
আরও দেখুনঃ
বিজেপি শিবির অবশ্য আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। দলের এক মুখপাত্র বলেছেন, “আইন সবার জন্য সমান। সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ হলে তা অপসারণ করতেই হবে। ধর্মের নামে আইন ভাঙা চলবে না।”সাহারানপুরের এই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিমদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেকে বলছেন, কালেক্টরেট চত্বরের ভিতরে থাকায় এটি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও সুবিধা দিত।
কিন্তু জমির মালিকানা ও অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। আদালতের রায়ে সেই বিতর্কের অবসান ঘটলেও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।আইনজীবীরা বলছেন, এই ধরনের মামলায় উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তাঁরা আশা করছেন, এলাহাবাদ হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এই রায় বদলানো সম্ভব হবে।
আরও দেখুনঃ