যাত্রীও ‘সেকেন্ড ক্লাস’! বদলাতে হবে রেলকে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
এই সময়, নয়াদিল্লি: ‘সেকেন্ড ক্লাস’ বা দ্বিতীয় শ্রেণির কামরা হতে পারে। কিন্তু ‘সেকেন্ড ক্লাস প্যাসেঞ্জার’ কেন? এই শব্দবন্ধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য ভারতীয় রেলকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ট্রেন থেকে পড়ে এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা সংক্রান্ত মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের পর্যবেক্ষণ— ‘মামলার নথি খতিয়ে দেখার সময়ে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রী’ শব্দটি আমাদের নজরে আসে। যদিও এটি মূলত যাত্রীর টিকিটের খরচের উপরে ভিত্তি করে বলা হয়, তবুও আমরা পরামর্শ দিচ্ছি যে, এই ‘সেকেন্ড ক্লাস’ বা ‘দ্বিতীয় শ্রেণি’ শব্দটি কেবল কোচের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হোক, যাত্রীর ক্ষেত্রে নয়।’
বেঞ্চের সংযোজন, ‘আমাদের দেশে শ্রেণি বিভাজনের যে কালো ইতিহাস রয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে কোনও মানুষকে এ ভাবে চিহ্নিত করাটা ভারতীয় সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।’এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাত্রী মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত৷ বেঞ্চের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে শহরতলির লোকাল ট্রেনে নিত্যযাত্রীদের অফিস যাওয়া–আসার সময়ে প্রাণ হাতে করে কামরার বাইরে ঝুলতে ঝুলতে গন্তব্যে পৌঁছনোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে ভারতীয় রেলকে৷ কারণ, এতেই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে৷
২০১৫–তে আমেদাবাদ-হাওড়া মেল থেকে পড়ে মারা যান চন্দ্রকান্ত ঠক্কর নামে এক ব্যক্তি। দুর্ঘটনার পরে তাঁর কাছ থেকে কোনও টিকিট মেলেনি বলে দাবি করে রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় খারিজ করে মৃতের স্ত্রীকে আট লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, ভারতীয় রেলের পরিসংখ্যানের নিরিখে চলন্ত ট্রেনের কামরা থেকে পড়ে যাত্রীমৃত্যুর এমন ঘটনা খুব বেশি না হলেও যে পরিবারের সদস্যরা এমন ঘটনার মুখোমুখি হন, তাদের যন্ত্রণার কথা মাথায় রাখা উচিত৷ এই প্রসঙ্গে বিচারপতি কারোল এবং বিচারপতি সিং গত বছর মুম্বই শহরতলির চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে চার যাত্রীর মৃত্যু এবং নতুন দিল্লি রেল স্টেশনে কুম্ভমেলার সময়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরেছেন৷ ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে প্রচুর পরিকল্পনা নিলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান হয়েই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘আগাম চিন্তাভাবনার বিষয়টি স্পষ্ট, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি আছে৷’