বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা বিতর্কে শুনানি শেষ, রায়দান পরে
এই সময়: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতির যে সিদ্ধান্ত অধ্যক্ষ নিয়েছেন, তা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের মামলার শুনানি শুক্রবার শেষ হলো কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। এ দিন শুনানিতে অধ্যক্ষের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী বলেন, ৫৮ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করে বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেটা মানা ছাড়া অধ্যক্ষের কাছে কোনও পথ ছিল না।
বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় গুপ্ত–র ডিভিশন বেঞ্চ পাল্টা প্রশ্ন করে, স্পিকার প্রথম কবে বিরোধী দলনেতা নিয়ে চিঠি পেয়েছিলেন? স্পিকারের আইনজীবী জানান, ৯ মে যখন একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তখনও স্পিকার নির্বাচিত হননি। ১৫ মে স্পিকার নির্বাচিত হন। ১৯ মে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি আসে, চিঠিতে বলা হয়েছিল যে সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে ১৮ মে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। পরে সই জাল সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়ে স্পিকারের কাছে। শেষে ৩ জুন তিনি বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিযুক্ত করেন।
মামলাকারী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী দাবি করেন, ১৯ মে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে চুপচাপ ছিলেন স্পিকার। তার পরে কাউকে কিছু না জানিয়েই স্পিকার ৩ জুন নিজের চেম্বারে বসে কে বিরোধী দলনেতা হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। স্পিকার সবাইকে অন্ধকারে রেখে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করেছেন। ওই চেয়ারে বসে এই ভাবে পক্ষপাত করা যায় না। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ চান শোভনদেবের আইনজীবী। স্পিকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ খারিজ করারও আর্জি জানান। প্রসঙ্গত, এর আগে এই মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চ অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তই বহাল রাখায় তা চ্যালেঞ্জ করা হয় ডিভিশন বেঞ্চে।