কেউ ট্রেন থেকে নেমে পড়লেন, কেউ সৌদি থেকে ছুটিই পেলেন না, মুর্শিদাবাদে মৃত চার পড়ুয়ার পরিবারে হাহাকার
শুভাশিস সৈয়দ, বহরমপুর
দুই গ্রামজুড়ে শুধুই হাহাকার! এই তো সবে স্কুল ইউনিফর্ম পরে রওনা দিয়েছিল খুদের দল। ব্যাগে বই-খাতা, টিফিন বক্স। গলায় ঝুলছে জলের বোতল। কেউ হাত নাড়িয়ে টাটা বলেছিল মাকে, কেউ আবার স্কুল না–যাওয়ার বায়না করে কান্নাকাটি করছিল রোজের মতো। পুলকারটা বেরিয়ে যেতেই বাড়ির লোকেরা যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎই বেজে উঠল মোবাইলটা। ওপ্রান্ত থেকে ভেসে এল ক’টি শব্দবন্ধ— খোলা লেভেল ক্রসিং, ছুটে আসা ট্রেন আর পিষে যাওয়া চার–চারটে কচি প্রাণ! মুহূর্তের মধ্যেই চিৎকার করে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতে লাগল পাশাপাশি বাড়িগুলি থেকে। আর তার পর থম মেরে গেল দুটো গ্রামই। খানিক পরে সংবাদমাধ্যম যখন পৌঁছল দুর্ঘটনাস্থলে, তখন দেখা গেল রেললাইনের পাশে ডাঁই করা নীল–গোলাপি স্কুলব্যাগ, টিফিন বক্স, ওয়াটার বটল। কেউ হয়তো পরম আদরে কুড়িয়ে জড়ো করে রেখেছেন। দূরে ছিটকে পড়েছে কালো ছোট্ট এক পাটি জুতোও।