How to Grow Dragon Fruit: এসব সহজ নিয়মে টবেই ফলিয়ে ফেলুন ড্রাগন | How to grow dragon fruit in pot at home terrace gardening tips
ছাদবাগান বা বারান্দার টবে আজকাল যে বিদেশি ফলটি ফলানোর হিড়িক সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে, তা হলো ড্রাগন ফল (Dragon Fruit)। ক্যাকটাস গোত্রের এই ফলটি যেমন দেখতে আকর্ষণীয়, তেমনই এর স্বাস্থ্যগুণও প্রচুর। বাজারে এর চড়া দামের কারণে অনেকেই ভাবেন ড্রাগন ফল বাড়িতে ফলানো হয়তো ভীষণ কঠিন। কিন্তু সঠিক নিয়ম জানলে খুব সহজেই আপনার বাড়ির ছাদ কিংবা বারান্দার টবেই থোকা থোকা ড্রাগন ফল ফলিয়ে ফেলা সম্ভব।
ড্রাগন ফল ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হলেও এর শিকড় চারদিকে ছড়ায় এবং গাছটি বেশ ভারী হয়। তাই এর জন্য একটু বড় আকারের ড্রাগন টব, হাফ ড্রাম বা কমপক্ষে ১৬ থেকে ২০ ইঞ্চির টব বা মাটির গামলা বেছে নেওয়া ভালো। টবের নিচে যেন অবশ্যই ভালো জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা (Drainage System) থাকে। চারা কেনার সময় কোনও ভালো নার্সারি থেকে উন্নত জাতের (যেমন লাল বা গোলাপী ড্রাগন) কাটিং থেকে তৈরি চারা সংগ্রহ করুন। বীজ থেকে গাছ হলে ফল আসতে অনেক বছর সময় লেগে যায়, কিন্তু কাটিংয়ের চারা থেকে এক বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব।
ড্রাগন গাছের জন্য হালকা বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে জল জমে থাকে না। মাটি তৈরির সহজ অনুপাত:
সাধারণ বাগানের মাটি: ৪০%
জৈব সার বা গোবর সার/ভার্মিকম্পোস্ট: ৪০%
সাদা বালি (জল নিষ্কাশন ভালো করার জন্য): ১০%
কোকোপিট, সামান্য হাড়ের গুঁড়ো ও নিমখোল: ১০%
সব উপকরণ একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে টবে ভরে চারা রোপণ করুন। মনে রাখবেন, ড্রাগন গাছে জল কম লাগলেও পুষ্টির প্রয়োজন প্রচুর হয়।
যেহেতু এটি লতানো ক্যাকটাস জাতীয় গাছ, তাই কিছুটা বড় হলেই গাছটি নিজের ভার ধরে রাখতে পারে না। গাছ লাগানোর সময়ই টবের মাঝখানে একটি শক্ত কাঠ বা পিভিসি (PVC) পাইপ পুঁতে দিতে হবে। গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলতো করে দড়ি দিয়ে ওই পাইপের সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। পাইপের মাথায় একটি ভাঙা প্লাস্টিকের গামলা বা চাকার মতো কাঠামো তৈরি করে দিলে ড্রাগন গাছের ডালপালা চারদিকে ছাতার মতো ঝুলে পড়বে, যা ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।
ড্রাগন গাছ মরুভূমির গাছ হওয়ায় এটি প্রচুর রোদ পছন্দ করে। ছাদের এমন জায়গায় টবটি রাখুন যেখানে দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি কড়া রোদ পায়। রোদ যত ভালো পাবে, ফলের মিষ্টি ও আকার তত ভালো হবে।
এই চাষের মূল মন্ত্র হল— “জল দিন মেপে”। টবের মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন। অতিরিক্ত জল দিলে গোড়া পচে গাছ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
গাছের প্রধান ডালটি মাচার ওপর উঠে যাওয়ার পর ডগাটি কেটে দিন, যাতে চারপাশ থেকে নতুন অনেক ডাল বের হতে পারে। ডাল যত বেশি ঝুলে পড়বে, ফুল ও ফল ধরার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
বছরে অন্তত তিনবার (বর্ষার আগে, বর্ষার পরে এবং শীতের শেষে) টবের মাটি সামান্য খুঁচিয়ে গোবর সার, হাড়ের গুঁড়ো এবং চামচ খানেক পটাস সার দিন। সাধারণত চারা লাগানোর ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ড্রাগন গাছের ফলনের মূল মরশুম। ফুল ফোটার মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই ফল পেকে লাল হয়ে যায়।