ভাইরাল হওয়ার নেশা, সাপ নিয়ে ‘ছেলেখেলায়’ প্রাণহানি
রনি চৌধুরী, ধূপগুড়ি
সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা অর্জন, ফলোয়ার্স বাড়ানো, লাইক কমেন্টস এবং শেয়ার পাওয়ার প্রবল নেশা এবং সর্বোপরি অর্থ উপার্জনের আশায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে সাপ ধরার প্রবণতা। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের নদীয়া জেলাতেও এই ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগ, ন্যূনতম প্রশিক্ষণ ছাড়াই সাপ ধরতে নেমে পড়ছেন বহু যুবক। নিজেদের পরিবেশকর্মী কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে বিষাক্ত, ক্ষীণ বিষ এবং নির্বিষ সাপও উদ্ধার করতে ছুটে যাচ্ছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অভ্যন্ত বিপজ্জনক এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে অজান্তেই আত্মঘাতী হয়ে উঠছে। এমনকী, কিছু ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারের এক স্বঘোষিত সর্পপ্রেমী একটি সাপ ধরতে গিয়ে ছোবল খেয়ে আহত হন। সাপটি নির্বিষ হওয়ায় দূর্ঘটনা ঘটেনি। এর আগে রায়গঞ্জে প্রশিক্ষণ ছাড়াই সাপ ধরতে গিয়ে বিশ্বজিৎ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সাপটিকে কৌটোয় ভরার সময়ে তিনি কামড় খান। নদীয়ার পালপাড়া এলাকায় রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) ধরতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। এসব ঘটনার পরেও শিক্ষা নিচ্ছেন না অনেকেই। সাপ ধরতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও একাধিকবার সামনে এসেছে। শুধু অপ্রশিক্ষিতরাই নন, প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ উদ্ধারকারীদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে রিল বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রচারের ‘লোভ’ সামলাতে পারছেন না। এর ফলে তাঁরা এমন কিছু ‘স্টান্ট’ করছেন, যা তাঁদের করার কথাই নয়। এর ফলে অভিজ্ঞ এবং প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারীদেরও মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে।