নদীতে ওত পেতে ছিল কুমির, কাকার চোখের সামনেই টেনে নিয়ে গেল নাবালককে - 24 Ghanta Bangla News
Home

নদীতে ওত পেতে ছিল কুমির, কাকার চোখের সামনেই টেনে নিয়ে গেল নাবালককে

Spread the love

নদীতে হাত-পা ধুতে গিয়ে কুমিরের কামড়ে মৃত্যু নাবালকের। মৃতের নাম সুনীল (১২)। তার কাকা বিজয়রাজ সিং অনেক চেষ্টা করেছিলেন সুনীলকে বাঁচানোর। কিন্তু ব্যর্থ হন তিনি। বিজয়রাজের চোখের সামনেই ওই নাবালককে টেনে নিয়ে কুমির। উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটলেও প্রকাশ্যে এসেছে শনিবার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও বন দপ্তর। বেশ কয়েক ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পরে বৃহস্পতিবার রাতে সুনীলের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

সূত্রের খবর, মৃত সুনীল উত্তরপ্রদেশের টিকুরি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা-মা কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছেন। সে কাকার কাছেই থাকত। সুনীল এ দিন তার কাকার সঙ্গে ঘাগরা নদীর কাছে একটি ধানক্ষেতে কাজ করছিল। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার আগে হাত-পা ধোয়ার জন্য নদীতে যায় সে। তখন সেখানে ওত পেতে বসেছিল বিশাল একটি কুমির। আচমকা জল থেকে উঠে এসে সুনীলের পা কামড়ে ধরে কুমির।

সুনীলের চিৎকার শুনে তার কাকা বিজয়রাজ এবং আসেপাশের ক্ষেতের কৃষকরা ছুটে আসেন। বিজয়রাজ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সুনীলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ৭ মিনিট পর্যন্ত তিনি সুনীলের হাত টেনে ধরে রেখেছিলেন। বাকি কৃষকরা কুমিরটিকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে থাকেন। কিন্তু কুমিরের শক্তির সঙ্গে তাঁরা পেরে ওঠেননি। সুনীলকে টেনে নদীর গভীরে নিয়ে চলে যায় কুমির। ঘটনার একটি ভিডিয়ো বর্তমানে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ঘটনার পরে পুলিশ এবং বাহরাইচ বন বিভাগের কর্মীরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। রাতের অন্ধকারে টর্চের আলো ও বাঁশ নিয়ে নদীর প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনার প্রায় ৫ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে সুনীলের দেহ ভাসতে দেখা যায়।

রেঞ্জার সাকিব আনসারি জানিয়েছেন, কুমির শিশুটির কোমরের নীচের অংশ এবং ডান পা খেয়ে ফেলেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মহকুমা শাসক প্রকাশ সিং জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে বন দপ্তর।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *