কবির প্রিয় বাড়ি ‘উদয়ন’-এর আদি রূপ ফিরিয়ে দিল বিশ্বভারতী
বিশ্বভারতী ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ ঘোষণার পর থেকে কবির সমস্ত বসতবাড়িকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে বিশ্বভারতী। তার প্রথম ধাপ হিসেবে ‘উদয়ন’ বাড়িকে বেছে নেন রবীন্দ্র ভবন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিশ্বভারতী হেরিটেজ কমিটি এই কাজ করতে গিয়ে প্রথম দিকে যথেষ্ট অসুবিধার মধ্যে পড়ে। উদয়ন বাড়ির ভেতরের আসবাব বিন্যাসের হদিশ পেতে হেরিটেজ কমিটিকে যথেষ্ট বেকায়দায় পড়তে হয়। বাড়ির ভেতরে থাকা আসবাবগুলির ক্যাটালগ নাম্বার খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খেতে হয় প্রতি পদে। কারণ অনেক আসবাব, যেগুলি পরে উদয়ন বাড়িতে ঢোকানো হয়েছিল, তার কোনও ক্যাটালগ নেই। সাবেক এবং পরে ঢোকানো আসবাব আলাদা করা নিয়ে চিন্তায় পড়েন কর্তৃপক্ষ। এর পরেই সাহায্য নেওয়া হয় রবীন্দ্র ভবনের আর্কাইভের। সেখানে কবির ২০ হাজার ছবি রয়েছে। তার মধ্যে যেগুলি উদয়ন বাড়িকেন্দ্রিক, সেগুলি বেছে নেওয়া হয়। তার পরেই শুরু হয় প্রাচীন সেই ছবিগুলিতে থাকা আসবাবের সঙ্গে সংগ্রহে থাকা আসবাব মেলানোর কাজ। চেয়ার–টেবিল, খাট–আলমারি, মায় ঘর সাজানোর সামগ্রীও রবীন্দ্রনাথের আমলে ঠিক যে দেওয়ালে যে ভাবে রাখা ছিল, ছবি দেখে সেগুলিকে সেখানেই রাখা হয়েছে। তার অন্যতম উদাহরণ জাপানি স্টাইলের একটি টুল। ১৯২৯–এ স্থপতি সুরেন করকে লেখা চিঠিতে এই টুলের ছবি এঁকে পাঠিয়েছিলেন কবি। অনুরোধ ছিল, এমন একটি টুল বানিয়ে দেওয়ার। উদ্ধার হয়েছে সেই টুলটিও। ‘উদয়ন’কে কবির সময়ের রূপে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে কয়েকশো টিউব লাইট, কাপ–প্লেট, থালা–বাসন, চেয়ার–টেবিল–ফার্নিচার আরও কত কী! দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময়ের আবর্জনাও পরিষ্কার করা হয় ঘরের ভিতর ও বাইরে থেকে।