Ziaur Rahman's Murderer Arrested: এতদিন বাংলাদেশেই লুকিয়ে ছিল! তারেক রহমান ক্ষমতায় আসতেই ধরা পড়ল তাঁর বাবার অন্যতম হত্যাকারী | He was Hiding in Bangladesh for Last 45 years, Former President Ziaur Rahman's Murdered Arrested - 24 Ghanta Bangla News
Home

Ziaur Rahman’s Murderer Arrested: এতদিন বাংলাদেশেই লুকিয়ে ছিল! তারেক রহমান ক্ষমতায় আসতেই ধরা পড়ল তাঁর বাবার অন্যতম হত্যাকারী | He was Hiding in Bangladesh for Last 45 years, Former President Ziaur Rahman’s Murdered Arrested

Spread the love

৪৫ বছর পর ধরা পড়ল জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী।Image Credit: X

ঢাকা: বাংলাদেশে তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকার গঠন হতেই ধরা পড়ল তাঁর বাবার অন্যতম হত্যাকারী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা, বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের (Ziaur Rahman) হত্যাকাণ্ডে অন্যতম চক্রী ধরা পড়ল। বিগত ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন প্রাক্তন সেনাকর্তা মোজাফফর হোসেন। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসতেই তাঁর বাবার হত্যাকারী ধরা পড়ল।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার বনানীতে একটি বাড়ি থেকে মোজাফফর হোসেন-কে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়, তারপর গ্রেফতার করা হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধে ৬টা নাগাদ ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের হাতে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নির্মম হত্যাকাণ্ড-

১৯৮১ সালের ৩০ মে মধ্য রাতে চট্টগ্রামে ব্য়র্থ সেনা অভ্যুত্থানের সময় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তথা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের হত্যার পর দেশে যখন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তখন সেনাশাসক হিসাবে ক্ষমতা দখল করেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা ছিল। সেই বইতে লেখা, হামলাকারীরা সার্কিট হাউসের ঘরে তন্নতন্ন করে জিয়াউর রহমানকে খুঁজছিলেন। গোলাগুলির শব্দ শুনে জিয়াউর রহমান ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁর সবচেয়ে কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেজর মোজাফফর ও লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন।

মাসকারেনহাস বর্ণনা করেছিলেন যে মোজাফফর তখন ভয়ে-আতঙ্কে কাঁপছিলেন। মোসলেহউদ্দিন জিয়াউর রহমানকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বইতে লেখা আছে, মোজাফফর ও মোসলেহউদ্দিন তখনও মনে করছিলেন, জিয়াকে হত্যা নয়, সার্কিট হাউস থেকে তুলে নেওয়া হবে।

এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান সামনে এসে সাবমেশিন গান দিয়ে জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেন। মাসকারেনহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, মোজাফফরের ভূমিকা হত্যার মুহূর্তে উপস্থিত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক ঘণ্টা পর মেজর মোজাফফর, মেজর শওকত আলী ও মেজর রেজা সশস্ত্র সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আবার সার্কিট হাউসে যান।

বইটিতে বলা হয়েছে, তাঁরা জিয়ার শোবার ঘরে তল্লাশি চালান। ‘গোপন কাগজপত্র’ ও জিয়ার ব্যক্তিগত ডায়েরি খোঁজা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি পুরোনো স্যুটকেসে ভরা হয়। এরপর জিয়া এবং নিহত দুই নিরাপত্তা কর্মীর দেহ কাপড়ে মুড়িয়ে সেনার গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ,  সে দিন রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনা অফিসারদের ঘাতক দলে মোজাফফরই রাষ্ট্রপতি জিয়াকে শনাক্ত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমানের হত্যাকারীদের অন্যতম মাথা ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউদ্দিন। এছাড়া জিয়াউর রহমানের হত্যার ‘মূল মাথা’ হিসাবে চিহ্নিত মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ওই অভ্যুত্থানের সময়েই হত্যা করেছিল তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেন মহম্মদ এরশাদেরঅনুগামী সেনারা।

অন্য অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের মধ্যে ১৩ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। অন্য পাঁচজনের কারাদণ্ড হয়। মেজর মোজাফফর এবং মেজর এসএম খালেদ নামে আরও এক অভিযুক্ত পালিয়ে যান। সূত্রের খবর, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেলেও, পরে মোজাফফর ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ছদ্মনামে বসবাস করছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *