Supreme Court: ‘নামের পাশ থেকে ডাক্তার সরিয়ে ফেলুন’, গরিব বলেই ‘ধর্ষিতা’ শিশুর চিকিৎসায় অস্বীকার? তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের | Drop Doctor From your Name, Supreme Court Rebukes Private Hospitals for Not Treating 4 year old Physical Assault Victim
হাসপাতালগুলিকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের।Image Credit: TV9 বাংলা
নয়া দিল্লি: চার বছরের ফুটফুটে শিশুকন্যা ধর্ষণের শিকার। তাঁকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হল দুটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। বিনা চিকিৎসাতেই মৃত্যু হল শিশুকন্যার। গোটা ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার ওই দুই হাসপাতাল ও তার চিকিৎসকদের তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট।
কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে। জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে ওই শিশুকন্যার প্রতিবেশী তাঁকে চকোলেটের প্রলোভন দিয়ে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরিবারের দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে কাছের একটি ফাঁকা জায়গা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ওই শিশুকন্যাকে নিয়ে পরপর দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, তারা কেউ ভর্তি নেয়নি। এরপরে গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
নির্যাতিতা শিশুর বাবার অভিযোগ, শিশুকন্যা দুই ঘণ্টা ধরে তীব্র যন্ত্রণায় কষ্ট পেয়েছে। যদি হাসপাতালে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হত, তাহলে তাদের সন্তান বেঁচে যেত। এরপরই ধর্ষণ ও খুনের মামলা দায়ের করা হয়।
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
এ দিন সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলার শুনানি হচ্ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে। হাসপাতালের গাফিলতির বর্ণনা শুনে শীর্ষ আদালত ভর্ৎসনা করে বলে, “আপনারা ওই শিশুকন্যার প্রতি গুরুত্ব দেননি, কারণ ওঁ গরিব ছিল।”
হাসপাতাল তার কর্তব্য় পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট হাসপাতালের ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করে বলে, “আপনাদের নামের পাশ থেকে ডাক্তার শব্দটি ফেলে দিন। যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে নামের পাশে ডাক্তার লেখার কোনও অর্থ নেই।”
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “যদি আপনাদের মধ্যে সহানুভূতি থাকত, তাহলে আপনাদের কাছে পরিষেবা না থাকলে, আপনারা ওই শিশুকে নিয়ে অন্য হাসপাতালে যেতেন। আপনারা অবহেলা করেছেন, কারণ ওঁ গরিব ছিল। আপনাদের ফি দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না।”
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমও জানিয়েছে যে হাসপাতাল সঠিক সময়ে চিকিৎসা করেনি। এরপরই শীর্ষ আদালত জরিমানা হিসাবে ওই দুই হাসপাতালকে স্বেচ্ছায় মৃতার পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করার নির্দেশ দেয়। যদি হাসপাতালগুলি এই নির্দেশ না মানে, তাহলে তাদের চরম মূল্য চোকাতে হবে বলেও সতর্ক করে আদালত। প্রধান বিচারপতি এই প্রসঙ্গে বলেন, “ক্ষতিপূরণের থেকেও বড় যে জিনিস সংশোধনের প্রয়োজন, তা হল দায়বদ্ধতা।”
সুপ্রিম কোর্ট পুলিশের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে। মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার পরই তারা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি, উল্টে তাদেরই শারীরিক হেনস্থা করে। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি-উত্তেজনার সৃষ্টি হলে, ১৭ মার্চ এফআইআর দায়ের হয়। ১৮ মার্চ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এফআইআরেও পকসো আইন বা ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণের শাস্তি) উল্লেখ ছিল না।