Murshidabad: আজ সকালে শ্রেয়ার বলা একটা কথা, মায়ের মনটা সায় দেয়নি, কীভাবে দুঃসহ মুহূর্তের থেকে বাঁচল শ্রেয়া? | Murshidabad School Van Tragedy: Girl Escapes Fatal Train Crash After Missing School
শ্রেয়ার মুখে ভয়ঙ্কর বর্ণনাImage Credit: TV9 Bangla
মুর্শিদাবাদ: স্কুলে যাবে বলে রাতেই ব্যাগপত্র সব গুছিয়ে রেখেছিল। সকালে ঘুম থেকে নির্দিষ্ট সময়ে উঠেও গিয়েছিল। কিন্তু মাথাটা ভীষণ ঝিমঝিম করছিল শ্রেয়ার। মায়ের মনে কেমন খটকা লাগে। তাই মেয়েকে আর স্কুলে পাঠাননি। পুলকার বাড়ির সামনেও আসে। ‘গাড়িকাকু’কে শ্রেয়ার মা-ই জানিয়ে দেন, শ্রেয়া আজ যাবে না। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাড়ার লোকের মুখে শুনতে পান এই খবর। বুকের ভিতরটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে। যে বাচ্চাগুলো তাঁর মেয়ের পাশেই বসে রোজ স্কুলে যায়, তাদের ভয়ঙ্কর পরিণতি। কারোর থেতলে গিয়েছে মুখ, কারোর থেতলে গিয়েছে মাথা। মুর্শিদাবাদের উন্মুত্ত রেলগেটে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুছড়ে থেতলে যাওয়া পুলকারে যে সেও রোজ স্কুলে যেত।
দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী শ্রেয়া। রোজ সে পুলকারেই স্কুলে যায়। সবার প্রথমে পুলকারে ওঠে ফারহানা, তারপরেই গাড়িতে ওঠে জেসিকা শবনম, তামান্না পারভিন ও ইনসারুল রহমান, এরপর গাড়ি এসে দাঁড়ায় শ্রেয়ার বাড়ির সামনে। গাড়ি চালান বিশ্বেশ্বর মণ্ডল। গাড়িতে হইহই করে স্কুলে যায়। ‘কাকু’র তাদের খুব প্রিয়। বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে যদুপুরের বেসরকারি বিদ্যালয়।
এদিনের ঘটনা শোনার পর থেকে শ্রেয়ার মুখে কোনও কথা নেই। চোখেমুখে আতঙ্ক। বুকের ভিতরটা বারবার কেঁপে উঠছে শ্রেয়ার মায়ের। কী ভাগ্যিস, তাঁর মনটা সকালে বলল, মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে না! বান্ধবীর কথা বারবার জিজ্ঞাসা করছে। এখনও হয়তো মা-বাবা তাকে বোঝাতে পারেননি সবটা। শ্রেয়ার মা বললেন, “মায়ের মন তো… বাচ্চাগুলোর মুখ চোখের সামনে ভাসছে।” পাড়া স্তব্ধ।