২০২৮ র মধ্যে যমুনায় কোনও বর্জ্য নয়! কড়া পদক্ষেপ শাহের - 24 Ghanta Bangla News
Home

২০২৮ র মধ্যে যমুনায় কোনও বর্জ্য নয়! কড়া পদক্ষেপ শাহের

Spread the love

নয়াদিল্লি: দিল্লির যমুনা নদীকে বাঁচানোর জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার (Yamuna River)। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে যমুনায় কোনো অশোধিত বর্জ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে…

নয়াদিল্লি: দিল্লির যমুনা নদীকে বাঁচানোর জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার (Yamuna River)। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে যমুনায় কোনো অশোধিত বর্জ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ডেডলাইন ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণাকে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির বড় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুসারে, দিল্লিতে প্রায় ৮০টি সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) এবং শিল্প বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো পুরোপুরি চালু হলে দিল্লির প্রায় সব অশোধিত বর্জ্য শোধন করে যমুনায় ছাড়া সম্ভব হবে। বর্তমানে দিল্লির বেশিরভাগ বর্জ্য সরাসরি যমুনায় মিশে যায়, যা নদীর মৃতপ্রায় অবস্থার অন্যতম কারণ।

আরও দেখুনঃ বাংলা থেকে পালিয়েও হল না শেষরক্ষা! গুরুগ্রাম থেকে পুশব্যাক ১৩ বাংলাদেশি

এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে প্রায় ১.২৫ লাখ গরু-মহিষের গোবর থেকে উৎপন্ন বর্জ্য যমুনায় না যায়, সেজন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর জন্য ইতিমধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। গোবরকে জৈব সার, বায়োগ্যাস এবং অন্যান্য উপযোগী পণ্যে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটিকে অনেকেই যমুনা পুনরুজ্জীবনের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ বলে অভিহিত করছেন।

দিল্লি জল বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্ল্যান্টগুলো আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো শুধু বর্জ্য শোধন করবে না, জলের মানও উন্নত করবে। কয়েকটি প্ল্যান্ট ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে এবং ফলাফল আশাব্যঞ্জক। পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দিল্লির দৈনিক কয়েকশো কোটি লিটার বর্জ্য জল শোধন করা সম্ভব হবে।

যমুনা নদী দিল্লির জন্য শুধু একটি নদী নয়, এটি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পরিবেশের অংশ। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অবাধে বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে নদী এখন প্রায় মৃত। বিশেষ করে শীতকালে যমুনার জল ফেনায় ভর্তি হয়ে যায় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়।

আরও দেখুনঃ বড়সড় রদবদল প্রশাসনে! এবার রাজধানীর নিরাপত্তার দায়িত্বে এলেন প্রাক্তন স্পাই

পরিবেশবিদরা অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, শুধু ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করলেই হবে না। এগুলো নিয়মিত চালু রাখা, রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং শিল্পকারখানাগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অনেক সময় প্ল্যান্ট তৈরি হলেও বিদ্যুৎ সংকট বা অব্যবস্থাপনার কারণে সেগুলো বন্ধ থাকে।

সরকারকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পকে ‘যমুনা পুনর্জন্ম’ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “২০২৮ সালের মধ্যে আমরা যমুনাকে অনেকটাই পরিষ্কার করে তুলব। এটা শুধু নদীর জন্য নয়, দিল্লির মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও জরুরি।” প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আরও দেখুনঃ সীমান্তে তিন বাহিনীর এক যোগে অপারেশন চালানোর অনুমোদন! স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সংস্কার মোদীর

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *