প্রয়াত কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স, ক্রিকেট হারাল সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারকে - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্রয়াত কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স, ক্রিকেট হারাল সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারকে

Spread the love

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স (Gary Sobers) ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত। তাঁর বিদায়ে শেষ হল ক্রিকেট ইতিহাসের এক স্বর্ণালী অধ্যায়।

সাফল্যের তীব্র কোলাহলের চেয়েও মানুষের জীবনের সবচেয়ে গভীর সত্যটি বোধহয় তার বিষণ্ণ নীরবতা। একটি মানুষ, যাঁর ব্যাটের জাদুতে একসময় থমকে দাঁড়াত গোটা পৃথিবী, তিনি যখন ঊননব্বই বছর বয়সে অনন্ত ঘুমের দেশে পাড়ি দেন, তখন শুধু একটি নশ্বর শরীরের অবসান হয় না, পরিসমাপ্তি ঘটে এক সুদীর্ঘ, নিঃসঙ্গ মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের। গারফিল্ড (গ্যারি) সোবার্স (Gary Sobers) নামটার সঙ্গে ক্রিকেটের অজস্র রোমান্টিসিজম। কিন্তু আমাদের মুগ্ধ চোখের আড়ালে, হাততালির কানফাটানো শব্দের পেছনে যে এক ক্লান্ত মানুষের গল্প লুকিয়ে থাকে, তা কি আমরা কখনও খেয়াল করি?

প্রতিভার এক নিজস্ব নিষ্ঠুরতা আছে। সে যাকে আশ্রয় করে, তাকে তিলে তিলে নিঃশেষও করে দেয়। মাত্র ষোলো বছর বয়সে যে লাজুক কিশোরটি বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রেখেছিল, সে হয়তো জানত না তার জন্য কী অনন্ত প্রত্যাশার ফাঁদ পাতা রয়েছে। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৩৬৫ রানের সেই ম্যারাথন ইনিংস তাকে রাতারাতি রক্তমাংসের মানুষ থেকে ‘কিং ক্রিকেট’-এর সিংহাসনে বসিয়ে দিয়েছিল। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ওভারে ছ’টি ছক্কা এ তো নিছক স্কোরবোর্ডের কোনও শুষ্ক পরিসংখ্যান নয়। এ যেন ক্যানভাসের ওপর এক উন্মত্ত চিত্রকরের তুলির আগ্রাসী আঁচড়, যেখানে ধ্বংস আর আদিম সৌন্দর্য মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

রিচি বেনো তাঁকে বলেছিলেন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার যিনি নতুন বল থেকে শুরু করে লেগস্পিন বা বাঁ হাতি স্পিন, সবই অনায়াসে করতে পারতেন। কিন্তু মনস্তত্ত্ব বলে, যে মানুষটা সব পারে, পৃথিবী তার কাছ থেকে সবটুকু শুষে নিতে চায়। যখন আপনি সব দিক থেকে পারদর্শী, তখন আপনার দুর্বল হওয়ার, ক্লান্ত হওয়ার কোনও অধিকার থাকে না। এই অবিরত ‘নিখুঁত’ হওয়ার চাপ মানুষের স্নায়ুকে কতটা ছিঁড়েখুঁড়ে দেয়, তা গ্যালারির সুরক্ষিত আসনে বসে থাকা দর্শকরা বুঝতে পারে না।
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়তো ব্যর্থতায় নেই, আছে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ায়। ১৯৭৪ সালে, আটত্রিশ বছর বয়সে যখন তিনি অবসর নিলেন, উইসডেন লিখেছিল এক অমোঘ সত্য সোবার্স শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। যে ক্রিকেট ছিল তার অস্তিত্বের সমার্থক, সেই ক্রিকেটের প্রতিই তিনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। এক জন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় মানসিক মৃত্যু আর কী হতে পারে?

নিজের প্রতিভার কাছেই তিনি বন্দি হয়ে পড়েছিলেন। মানুষ যখন নিজের গড়া ইমেজের দাস হয়ে যায়, তখন তার নিজস্ব সত্তা বলে আর কিছু থাকে না। জীর্ণ হাঁটু আর ক্লান্ত মন নিয়ে তাঁকে বার বার মাঠে নামতে হত, কারণ পৃথিবী তাঁর কাছে জাদুর চেয়ে কম কিছু আশা করত না। এই যে অনন্ত প্রত্যাশার ভার, এটি মানুষের ভেতরকার সমস্ত আনন্দকে শুষে নিয়ে এক যান্ত্রিক শূন্যতা তৈরি করে। সোবার্স নিজেরই শ্রেষ্ঠত্বের শিকার হয়েছিলেন।
আটত্রিশ বছরে ক্রিকেট ছাড়ার পর বাকি দীর্ঘ জীবনটা আসলে ছিল এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়ার। ১৯৯৪ সালে যখন ব্রায়ান লারা তাঁর সেই রেকর্ড ভাঙলেন, তখন সোবার্স হয়তো এক অদ্ভুত মুক্তি অনুভব করেছিলেন। শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট সব সময় কাঁটার হয়; সেই মুকুট অন্যের মাথায় গেলে এক ধরনের নিরাময় আসে। খ্যাতির চূড়া থেকে নেমে এসে সাধারণ মানুষের মতো বার্ধক্য আর বিস্মৃতিকে মেনে নেওয়া সহজ নয়। কিন্তু তিনি তা পেরেছিলেন, কারণ খ্যাতির অসারতা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *