তমলুকের রথে শ্রীখোল বাজান শুভেন্দু, দিঘায় উদ্বোধনে শিশির - 24 Ghanta Bangla News
Home

তমলুকের রথে শ্রীখোল বাজান শুভেন্দু, দিঘায় উদ্বোধনে শিশির

Spread the love

এই সময়: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও বদলায়নি বহু বছরের রীতি। তমলুকের ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রভু মন্দিরে এ বারেও রথযাত্রায় হাজির ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাধামাধবকে প্রণাম করে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার আরতি, রথের সামনের রাস্তায় ঝাড়ু দেওয়া, নারকেল ফাটানো, বাতাসা বিতরণ— সব আচার পালন করে রথের দড়িতেও টান দিলেন তিনি।

প্রতি বছরের মতো এ বারও সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নামে। বিকেল ৩টে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে পৌঁছন। রথযাত্রার সূচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদার সঙ্গে এই উৎসবে অংশগ্রহণের কোনও সম্পর্ক নেই। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি একজন ভক্ত ও সেবক হিসেবে এই মহাপ্রভু মন্দিরে আসছি। রাজনীতি করি কি না, কোনও পদে আছি কি না, তা কখনও বিবেচ্য ছিল না। আমি একজন সনাতনী, রাধামাধবের শিষ্য ও মহাপ্রভু জগন্নাথের চরণাশ্রিত দাস হিসেবেই প্রতি বছর এখানে আসি, এ বারও এসেছি।’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চৈতন্যদেবের তাম্রলিপ্তে অবস্থানের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মহাপ্রভু মন্দিরের রথযাত্রা আমার কাছে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির বিষয়।’

অন্য দিকে, জগন্নাথের বিশেষ পুজো ও আরতির পরে পথে ঝাড়ু দিয়ে দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রার সূচনা করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী শিশির অধিকারী। এ দিন বিকেল ৩টে নাগাদ তিনি দিঘার মন্দিরে পৌঁছন। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত তথা মন্দির ট্রাস্টি কমিটির সদস্য রাধারমণ দাসকে সঙ্গে নিয়ে রথের রশিতে টান দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন।

রথযাত্রা উপলক্ষে পুলিশি নজরদারি থাকলেও গত বারের মতো কড়াকড়ি ছিল না। ‘ভিআইপি’ বা ‘ভিভিআইপি’ কালচারকে দূরে সরিয়ে এ দিন সর্বজনীন হয়ে ওঠে জগন্নাথ মন্দিরের রথ। রথের রশিতে টান দিতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ। হাওড়ার শিবপুর থেকে দিঘা বেড়াতে এসে মল্লিকা দাস বলেন, ‘পুরী অনেক বার গিয়েছি। কিন্তু রথ দেখা হয়নি। এ বার দিঘায় এসে রথ দেখলাম। রথের রশিও টানলাম।’

রথযাত্রা মানেই মেদিনীপুরে শুধু ভক্তি আর উৎসব নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বিশেষ খাদ্য-ঐতিহ্যও। গরম জিলিপি, পাপড়ভাজা, সীতাভোগ ও মালপোয়ার স্বাদ নিতে প্রতি বছরের মতো এ বারও ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শতাধিক অস্থায়ী জিলিপির দোকান বসেছিল।

এ দিন সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে বিক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও বিকেলের দিকে বৃষ্টির দাপট কমতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রথ দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে দোকানগুলি। জিলিপি বিক্রেতা প্রতিমা খাঁড়া বলেন, ‘কেশপুরের আনন্দপুর থেকে অভিজ্ঞ কারিগর এনে জিলিপি তৈরি করেছি। পাশাপাশি সীতাভোগ ও মালপোয়াও বানিয়েছি। উল্টোরথ পর্যন্ত আমাদের দোকান চলবে। বিকিকিনিও ভালো হচ্ছে।’

রথের মেলায় আসা মেদিনীপুরের বাসিন্দা পিযূষ সেনাপতি, সৌমিলি সাহা ও রন্তিদেব সিংদের কথায়, ‘রথের মেলায় গরম গরম জিলিপি আর পাপড়ভাজা না খেলে যেন উৎসবটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ছোটবেলা থেকে সে সবের স্বাদ একই রকম রয়েছে।’

রথযাত্রার দিনে শিক্ষার আলো আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মেদিনীপুর শহরের ধর্মা এলাকায় ‘জ্ঞান সেতু’র উদ্যোগে ও মেদিনীপুরের বিধায়ক বিজেপির শঙ্কর গুছাইতের সহযোগিতায় শুরু হলো ‘বিধায়ক পাঠশালা’। এই পাঠশালায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার সুযোগ পাবে। এ দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে পাঠশালার উদ্বোধন করেন বিধায়ক নিজেই।

শঙ্কর বলেন, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শুধুমাত্র আর্থিক অসুবিধার কারণে কোনও ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক, তা আমরা চাই না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও স্বনির্ভর করে তুলতেই এই উদ্যোগ।’ প্রসঙ্গত, রাজনীতিতে আসার বহু আগে থেকেই শঙ্কর একজন জনপ্রিয় গণিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

মহিষাদলের রথযাত্রার সূচনা করেছেন মহিষাদল রাজবাড়ির সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ। স্থানীয় রথতলায় রথযাত্রার সূচনা হয়। এ দিন সুতাহাটা একতা পরিষদের উদ্যোগেও হয়েছে রথযাত্রা। সংস্থার অন্যতম কর্মকর্তা সত্যব্রত দাস জানান, এলাকার মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনায় একতা পরিষদের রথযাত্রা সফল হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মকরামপুরে রথযাত্রা ও গ্রামীণ মেলা উদ্বোধন করেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *