পঞ্চম বর্ষে পা কামারহাটির রথের
এই সময়, কামারহাটি: পুরীর রথযাত্রার আবহ এ বারও ফিরছে কামারহাটিতে। বৃহস্পতিবার বেলঘরিয়া রথতলা জগন্নাথ মন্দির কমিটি ট্রাস্টের উদ্যোগে পঞ্চম বর্ষে রাস্তায় নামছে সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি তিনটি বিশাল রথ। উদ্যোক্তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি এত বড় রথ আর নেই। পুরীর রীতি ও আচারকে যতটা সম্ভব অনুসরণ করেই আয়োজন করা হয়েছে এ বারের রথযাত্রার।
১৬ চাকার ৩৫ ফুট উঁচু জগন্নাথের রথ, ১৪ চাকার ৩৩ ফুটের বলরামের রথ এবং ১২ চাকার সুভদ্রার রথই মূল আকর্ষণ। রথ নির্মাণে ব্যবহার হয়নি একটি পেরেকও। রাউরকেল্লার জঙ্গল থেকে আনা অশন, ঢৌরা ও শাল কাঠ দিয়ে পুরী থেকে আসা কারিগরদের তত্ত্বাবধানে প্রায় চার মাস ধরে তৈরি হয়েছে এই রথগুলি। স্নানযাত্রা শেষে পুরীর ঐতিহ্যবাহী পহন্ডি প্রথা মেনেই খোল, করতাল ও শঙ্খধ্বনির মধ্যে কাঁধে করে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে আরোহণ করানো হবে। কামারহাটির রথতলা মোড়ে প্রথমে বলরাম, পরে সুভদ্রা এবং সবশেষে জগন্নাথের রথ সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হবে বিটি রোডের কলকাতা অভিমুখী লেনে।
পুরীর রথ রওনা হওয়ার পর বিটি রোড ধরে কিছুটা দূরে শিশু উদ্যান মাঠে অবস্থিত মাসির বাড়ির উদ্দেশে রথযাত্রা শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা কার্তিক মহারাজ, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ, তারকেশ্বর মন্দিরের মহন্ত শ্রীমৎ দণ্ডী স্বামী সুরেশ্বরানন্দ প্রভু মহারাজ-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। রথযাত্রাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে প্রায় ৮০০ জন মোতায়েন থাকবেন। যানজট এড়াতে সোদপুর থেকে বিটি রোডের কলকাতামুখী অংশে সাময়িক ভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। ব্যারাকপুরমুখী রাস্তা দু’দিকের যান চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হবে।
পুরীর রথযাত্রার আবহকে শহরতলিতে পৌঁছে দিতে গত পাঁচ বছর ধরে এই আয়োজন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়েছে। কামারহাটি, বেলঘরিয়া-সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে এই রথযাত্রা এখন অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। মন্দির ও উৎসব কমিটির প্রধান সোমনাথ রায়চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এই রথ নিষ্ঠা, সাত্ত্বিক ও উপাসনার রথ। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে ৮০০ বছরে পুরীর আদলে যন্ত্র খচিত এই রথ আগে কেউ করেনি। গত চার বছর ধরে মানুষ আমাদের যে ভাবে উৎসাহ দিয়েছেন তাতে আমাদের ইচ্ছাশক্তি আরও বেড়ে গিয়েছে।’