সাইবার ফ্রডে সর্বস্বান্ত, বিপন্ন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রৌঢ় চাষি
শৈলেনের কথায়, ‘সাইবার ক্রাইমের তরফে বলা হয়, পোর্টালে সব আপলোড করা হয়েছে, প্রসেস শুরু হয়েছে, টাকা উদ্ধার হবে। কিন্তু তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা উদ্ধার হয়নি।’ প্রৌঢ় বলেন, ‘পুলিশের কাছে গেলে বলছে — আমরা দেখছি!’ রানাঘাট পুলিশ জেলার সাইবার ক্রাইম থানার (কল্যাণী) একাধিক অফিসারকে ফোন করা হলেও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। রাসায়নিক সার বাদ দিয়ে জৈব, দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে দেশজ ফসল ফলানো শৈলেনের পেশা, নেশাও। মূলত হারিয়ে যাওয়া দেশি ধানের বীজ সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়ে বহু বছর ধরে মেতে আছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের গবেষক-অধ্যাপকদের থেকে পরামর্শ এবং সরকারি প্রশিক্ষণ নিয়ে সুগন্ধী ধানের জৈবচাষ শুরু করেছিলেন। ‘রাধাতিলক’ সুগন্ধী ধান টিকিয়ে রাখতে বহু পরিশ্রম করেন শৈলেন। পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের স্বীকৃতি হিসেবে ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ ও বিপণন’ বিষয়ে ২০১৯–এ তাঁকে জাতীয় পুরস্কার দেয় কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি মন্ত্রক। অথচ আজও নিজের জমি নেই প্রৌঢ়ের। তাঁর কথায়, ‘অন্য কোনও আগ্রহী চাষির জমিতে বীজ ফলিয়ে সেগুলি মূলত সংরক্ষণ ও বিক্রি করি।’ নদিয়া–সহ অন্যান্য জেলা তো বটেই, দেশের অন্য রাজ্যের চাষিদের কাছেও বীজ বিক্রি করেন তিনি। ছাপোষা শৈলেনের তিন মেয়ে। দু’জনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। সংসার চালানো, রাধাতিলকের জৈব চাষের জন্য ছুটোছুটির পাশাপাশি এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ৬৩ বছরের শরীর দ্রুত অশক্ত হচ্ছে। শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকায় মাসে প্রায় আড়াই হাজার টাকার ওষুধই খেতে হয় তাঁকে। বলেন, ‘সাময়িক লাভের জন্য যেমন কিছু লোক রাসায়নিক ও হাইব্রিডের ভরসায় চাষাবাদে বিজ্ঞানের অপব্যবহার করছে, তেমনই এই প্রতারকরা অসাধু কাজে হাতিয়ার বানিয়েছে প্রযুক্তিকে। তা হলে আর আধুনিক পড়াশোনা, সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট, প্রশাসনের কড়াকড়িতে কী লাভ? এই দুষ্কৃতীদের তো সিস্টেম থেকে নির্মূল করা যাচ্ছে না। এরা কি এ ভাবে প্রতারণা করে নিরীহ মানুষের উপরে অত্যাচার চালিয়েই যাবে?’ কথার শেষে গলা বুজে আসে রাধাতিলকের পালক শৈলেনের।