মাসল লস থেকে অর্গ্যান ফেলিওর, টানা ১০ দিনের বেশি অনশন করলে শরীরে কী কী সমস্যা হতে পারে?
জেনারেল ফিজ়িশিয়ান রুদ্রজিৎ পাল বলেন, ‘জল ছাড়া মানুষ ৭২ ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না। খুব বেশি হলে ৪ দিন। কিন্তু তার বেশি নয়। তবে জল খেলে এবং খাবার না খেলে মানুষ ১-২ সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচতে পারে। কিন্তু শরীর খুবই বেহাল হয়ে যায়।’ জল খেয়ে অনশন করলেও যে শরীর খুব একটা ভালো থাকে, তা কিন্তু নয়।
অনশন করার সময়ে শরীর কতটা খারাপ হবে, তা নির্ভর করছে ওই ব্যক্তির শরীরে কতটা ফ্যাট রয়েছে, তার উপর। নিউট্রিশনিস্ট অনুশ্রী মিত্র বলেন, ‘শরীরের ফ্যাট এবং বডি মাস ইনডেক্সের উপর নির্ভর করছে একজন মানুষ কতদিন খাবার না খেয়ে বাঁচতে পারেন।’ পুষ্টিবিদের সংযোজন, ‘খাবার খাচ্ছেন না, তবে শুধু জল খাচ্ছেন, এমন ব্যক্তি বহু দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারেন। কিন্তু শরীরের অবস্থা খুব একটা ভালো জায়গায় থাকে না।’
অনশন চলাকালীন শরীরে ঠিক কী ঘটে? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে অনুশ্রী বলেন, ‘শরীরে যে গ্লাইকোজেন থাকে, সেটা ভাঙতে শুরু করে। তারপরে ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে। ফ্যাট যখনই ভাঙবে, সেখান থেকে কিটোন তৈরি হবে। আর এখান থেকেই মাসল লস করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩-৫ দিন পর থেকেই এই সমস্যা তৈরি হবে। তারপরেই রক্তচাপ, সুগার লেভেল কমে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দেবে।’ শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শক্তির অভাবে যেমন দুর্বল হয়ে পড়বে, তেমনই ভুল বকার মতো উপসর্গও দেখা দেবে।