মেসিদের জয়ের পর রণক্ষেত্র মাঠ! ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সংঘর্ষে চাঞ্চল্য
বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ (FIFA World Cup) মানেই বাড়তি উত্তেজনা। দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং ঐতিহাসিক রেষারেষি এই দ্বৈরথকে…
বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ (FIFA World Cup) মানেই বাড়তি উত্তেজনা। দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং ঐতিহাসিক রেষারেষি এই দ্বৈরথকে অন্য মাত্রা দেয়। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ম্যাচে আর্জেন্টিনা নাটকীয়ভাবে জয় তুলে নেওয়ার পর শুধু মাঠেই নয়, গ্যালারি এবং স্টেডিয়ামের বাইরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সমর্থক, উভয় পক্ষই একাধিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা এবং জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে পৌঁছে যায়। এই পরাজয় ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের অনেকের কাছেই হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে জুড বেলিংহ্যামের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা মাঠে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন। অভিযোগ, সেই সময় বেলিংহ্যাম হঠাৎই আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ভ্যালেন্টিন বার্কোর কাছে গিয়ে তাঁর ঘাড়ের কাছে আঘাত করেন। ঘটনাটি দেখে সঙ্গে সঙ্গে বার্কোর সতীর্থরা ছুটে এসে প্রতিবাদ জানান। মুহূর্তের মধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। যদিও ঘটনাটির জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও ফুটবলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
শুধু বেলিংহ্যাম নন, ইংল্যান্ডের আরেক ফুটবলার মর্গ্যান রজার্সও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা তাঁর সামনে উদযাপন করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে লাউতারো মার্তিনেসকে ধাক্কা দেন এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ইংল্যান্ড দলের অন্য ফুটবলাররা এসে রজার্সকে সরিয়ে নিয়ে গেলে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
তবে ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল খেলা চলাকালীনই। মাঠে একাধিকবার দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বেলিংহ্যাম ও লিওনেল মেসির মধ্যেও এক পর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। রেফারিকে কয়েকবার হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।
উত্তেজনার আঁচ গ্যালারিতেও স্পষ্ট ছিল। দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে শুরু থেকেই স্লোগান, পাল্টা স্লোগান এবং কথার লড়াই চলছিল। অভিযোগ, ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় আর্জেন্টিনার একাংশের সমর্থকরা ইচ্ছাকৃতভাবে শোরগোল করেন। এরপর ম্যাচ শেষ হতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন, এমনকি রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন:FIFA বিশ্বকাপে সুযোগ পেল ভারত! কাপ জেতার হুংকার রঞ্জিত বাজাজের
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই পক্ষের বহু সমর্থককে আটক করে এবং পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। শুধু ম্যাচ ভেন্যু আটলান্টাতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ বিভিন্ন শহরেও দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। এমনকি ইংল্যান্ডের বার্মিংহামেও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।