মেসিকে রুখতে আলাদা ফাঁদ, ম্যান মার্কিংয়েই কি মিলবে সাফল্য? কী প্ল্যান ইংল্যান্ডের?
বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি (Lionel Messi) মানেই আলাদা আতঙ্ক। বয়স ৩৯ পেরিয়েছে, কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভয় ছড়ানোর ক্ষমতা এতটুকু কমেনি। নকআউট পর্বে আর্জেন্তিনা (Argentina) বারবার বিপদে পড়েছে, রক্ষণে দেখা গিয়েছে একের পর এক ফাঁক। তবু যখনই দলকে বাঁচানোর প্রয়োজন হয়েছে, তখনই সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন মেসি। গোল করেছেন, করিয়েছেন, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের (England) বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের আগে তাই একটাই আলোচনা— মেসিকে থামানো যাবে কী ভাবে?
এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতে গিয়ে চমকে দেওয়ার মতো পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার ট্রয় ডিনি (Troy Deeney)। তাঁর মতে, মেসির জন্য আলাদা পরিকল্পনা না করলে বড় মূল্য দিতে হতে পারে টমাস তুচেলের (Thomas Tuchel) দলকে।
তুচেলের জন্য স্পষ্ট বার্তা
ডিনির মতে, সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডকে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। তাঁর দাবি, নিকো ও’রেইলিকে (Nico O’Reilly) বেঞ্চে বসিয়ে প্রথম একাদশে জায়গা দেওয়া উচিত জেড স্পেন্সকে (Djed Spence)। ও’রেইলির পারফরম্যান্স নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে ডিনি বলেন, ‘ও খারাপ খেলেনি, কিন্তু খুব ভালোও খেলেনি। একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের কাছে শুধু মোটামুটি পারফরম্যান্স যথেষ্ট হতে পারে না। ওর কাছ থেকে আরও অনেক বেশি আশা করা যায়।’
মেসিকে এক মুহূর্তও চোখের আড়াল নয়
ডিনির বিশ্বাস, সেমিফাইনালে মেসি বারবার ইংল্যান্ডের বাঁদিকের রক্ষণে আঘাত হানবেন। আর সেই কারণেই স্পেন্সকে প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। ডিনির দাবি, ‘আমি স্পেন্সকে খেলাতাম। আর ওকে একটাই দায়িত্ব দিতাম— মেসি যেখানে যাবে, তুমিও সেখানে যাবে। মেসি ভেতরে ঢুকলে তুমিও ভেতরে ঢুকবে। ওকে এক মুহূর্তের জন্যও ফাঁকা জায়গা দেওয়া যাবে না।’
তাঁর মতে, মেসির বিরুদ্ধে সাধারণ রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কাজে নাও লাগতে পারে। কারণ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের সুযোগ পেলেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা।
ইংল্যান্ডের তুরুপের তাস কি স্পেন্স?
চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ছ’টি ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন স্পেন্স। যদিও প্রথম একাদশে ছিলেন মাত্র দু’বার। কিন্তু যখনই সুযোগ পেয়েছেন, নিজের গতি, শক্তি এবং লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে নরওয়ের বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্স অনেককেই মুগ্ধ করেছে।
এখন দেখার, তুচেল কি সেই পথেই হাঁটেন? কারণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের লড়াই শুধু আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে নয়, একজন প্লেয়ারের বিরুদ্ধেও। সেই প্লেয়ারের নাম লিওনেল মেসি। আর বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, মেসিকে যদি একবার জায়গা দেওয়া হয়, তা হলে কয়েক সেকেন্ডেই স্বপ্ন ভেঙে দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে পুরো ম্যাচ। বুধবারের সেমিফাইনালে সেই আশঙ্কাই তাড়া করে বেড়াচ্ছে ইংল্যান্ড শিবিরকে।