ভুল কমেছে, বিতর্ক নয়, VAR বনাম DRS— কোন প্রযুক্তি বেশি সফল?
আর্জেন্তিনা-মিশর ম্যাচ সেই বিতর্ককে বিস্ফোরণের জায়গায় নিয়ে যায়। মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়ার পর মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম হয়ে ওঠে। কিন্তু শুধু এই ম্যাচই নয়, বিশ্বকাপের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্তুগাল (Portugal) বনাম ক্রোয়েশিয়া (Croatia) ম্যাচে কানেক্টেড বল প্রযুক্তির সাহায্যে আক্রমণ গড়ার সময় সামান্য স্পর্শ ধরা পড়ায় ক্রোয়েশিয়ার সমতা ফেরানো গোল বাতিল হয়। ইংল্যান্ড (England) বনাম নরওয়ে (Norway) ম্যাচেও জুড বেলিংহ্যামের (Jude Bellingham) গোল নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নরওয়ের খেলোয়াড়দের দাবি ছিল, বলটি ক্যামেরার তারে লেগেছিল। পরে প্রযুক্তির সাহায্যে ফিফা জানায়, কোনও স্পর্শ হয়নি। আবার আর্জেন্তিনা বনাম সুইৎজ়ারল্যান্ড (Switzerland) ম্যাচেও একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়।
ফলে প্রশ্নটা আর প্রযুক্তির নির্ভুলতা নিয়ে নয়। প্রশ্ন উঠছে তার প্রয়োগ নিয়ে। সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, VAR থাকলেও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সেই কাঙ্ক্ষিত ধারাবাহিকতা এখনও দেখা যাচ্ছে না। অনেক সময় মনে হচ্ছে, একই ঘটনার ব্যাখ্যা ভিন্ন ম্যাচে ভিন্ন ভাবে করা হচ্ছে।
যদিও ফিফার (FIFA) রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা (Pierluigi Collina) সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘ফাউল তো ফাউলই। সেটা গোলের কাছে হোক বা ৫০ মিটার দূরে। আক্রমণ তৈরির সময় ফাউল হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই হবে।’
প্রাক্তন ফিফা রেফারি জোনাস এরিকসনের (Jonas Eriksson) মতে, সমর্থকেরা শুধু সঠিক সিদ্ধান্তই চান না, চান একই ধরনের ঘটনার জন্য একই বিচারও। তাঁর কথায়, ‘একজন খেলোয়াড় যে শাস্তি পাবে, অন্যজনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’