দুই ভুয়ো পুলিশকে বাইকে তাড়া, ধরলেন খোদ ব্যবসায়ী
এই সময়, বর্ধমান: ভুয়ো পুলিশ সেজে সোনার গয়না হাতানোর চেষ্টা রুখে দিলেন এক ব্যবসায়ী ও উত্তেজিত জনতা। সোমবার দুপুরে বর্ধমানের ঘটনা।
গুডশেড রোডের লায়ন্স ক্লাব থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে মোটরবাইকে মির্জাপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন ব্যবসায়ী অশোক সামন্ত। নেরোদিঘি এলাকায় আসতেই পিছনের একটি মোটরবাইক তাঁর পথ আটকায়।
অভিযোগ, বাইকে থাকা দুই আরোহী নিজেদের পুলিশ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে অশোককে ভুয়ো পরিচয়পত্র দেখায়। এর পরে তল্লাশির নামে তাঁর ব্যাগ, গলার সোনার হার ও ব্রেসলেট খুলে একটি কাগজে মুড়িয়ে রাখার নির্দেশ দেয় তারা। কিন্তু সুযোগ বুঝে আসল গয়না সরিয়ে তারা কাগজে অন্য কিছু মুড়ে অশোককে ফেরত দেয় এবং ধমক দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।
কাগজের প্যাকেটটি হাতে নিয়েই সন্দেহ হয় অশোকের। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই ভুয়ো পুলিশের পিছু ধাওয়া করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও মেন রোডে চলে লুকোচুরি পর্ব। অবশেষে গোলাপবাগ মোড়ের কাছে এসে অশোক ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই দু’জনকে ধরে ফেলেন।
ক্ষিপ্ত জনতা তাদের গণপিটুনি দিতে শুরু করলে এক সিভিক ভলান্টিয়ার বর্ধমান থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই দু’জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং অশোকের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে হাজির করা হবে।
অশোক বলেন, ‘আমাকে কী ভাবে রাস্তায় আটকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে মুহূর্তে সব গয়না খুলিয়ে নিল সেটা আমি বোঝাতে পারব না। প্রথমে একঝলকে যে কেউ পুলিশ বলেই মনে করবে। পরে কাগজে মোড়ানো অবস্থায় আমাকে গয়না ফেরত দিতেই সন্দেহ হলো। তার পরেই আমি ওদের পিছু ধাওয়া করি। এক ঘণ্টা ধরে শহরের অলিগলি ঘুরে যখন গোলাপবাগের দিকে ওরা যায় তখনই এলাকার লোকেদের সাহায্য নিয়ে ধরে ফেলি। পরে পুলিশ এসে ওদের নিয়ে গিয়েছে। আমার আসল সোনার গয়না ফেরত পেয়েছি। প্রথম থেকেই ওরা হিন্দিতে কথা বলছিল। পুলিশের কাছে জানতে পেরেছি, ওরা হরিয়ানা থেকে এখানে এসেছিল।’