টিবি রোগীদের সঙ্গে নাবালকরাও মাদকাসক্ত, সুস্থ করতে রিহ্যাবে
এই সময়, বর্ধমান: টিবি বা যক্ষ্মার মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত, অথচ সেই অসুস্থ শরীরেই অনেকে মাদকাসক্ত। আবার আক্রান্তদের কয়েক জনের পরিবারের নাবালকদেরও মাদকের নেশা গ্রাস করেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমীক্ষায়। সুস্থ করে তোলার জন্য নাবালক-সহ সেই সব মাদকাসক্ত যক্ষ্মারোগীদের প্রশাসনিক উদ্যোগে রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল।
যক্ষ্মা বা টিবি রোগে আক্রান্তদের সারিয়ে তোলার লক্ষ্যে বাকি দেশের সঙ্গে নানা ধরনের কাজ শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। পূর্ব বর্ধমান জেলাও পিছিয়ে নেই এই প্রচেষ্টায়। যক্ষ্মায় আক্রান্তদের বিভিন্ন ভাবে চিহ্নিত করে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি এই কাজ আরও নিবিড় ভাবে করার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দায়িত্ব দিয়েছেন জেলাশাসক। সংগঠনটি মাঠে নেমে কাজ করতে গিয়ে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৮ জন নাবালকের পাশাপাশি এই রোগে আক্রান্ত নন, এমন ২৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৩৪ জন নাবালকের মধ্যে সমীক্ষা চালায়।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এই মোট ৪৬০ জনের মধ্যে ৬২ জনের নিত্যসঙ্গী মদ, গাঁজা ছাড়াও অন্য বেশ কিছু নেশার সামগ্রী। তাঁদের ২৩ জন বর্ধমান পুর এলাকার বাসিন্দা। মাদকাসক্তদের কয়েক জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত, বাকিরা নন। আরও দুশ্চিন্তার বিষয়, মাদকাসক্তদের মধ্যে রয়েছে ২০ জন নাবালক। তবে তারা কেউ যক্ষ্মারোগী নয়। সংগঠন রিপোর্টের আকারে সেই তথ্য তুলে দিয়েছে জেলাশাসকের হাতে।
শিশুদের বর্তমান চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি বা সিডব্লিউসির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বারাসাত এলাকায় একটি সরকারি রিহ্যাব সেন্টারে। এই রিপোর্ট পেয়েই জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল বিশেষ উদ্যোগী হয়ে যক্ষ্মায় আক্রান্ত পরিবারগুলিকে নিয়ে আলোচনাসভার ব্যবস্থা করেন। নিজে সেখানে উপস্থিত থেকে নেশা করার ফলে কী ক্ষতি হচ্ছে, তা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি নাবালক-সহ যক্ষ্মায় আক্রান্ত ও আক্রান্ত নন, এমন সব মাদকাসক্তকে রিহ্যাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। রিহ্যাবে রাখার বিষয়ে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জেলা প্রশাসন এক যোগে কাজ করবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘নেশামুক্ত ভারত প্রকল্পের কাজে নেমে আমাদের নজরে আসে, মাদকাসক্তদের মধ্যে অনেকেই যক্ষ্মায় আক্রান্ত। যক্ষ্মারোগীরা চ এমনিতেই শারীরিক ভাবে দুর্বল। তার পরে তাঁরা নেশা করলে বাঁচার আশা আরও কমে। আর শিশুরা নেশা করলে তাদের ক্ষতি আরও বেশি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘জেলাশাসক বিষয়টি জেনে এই মাদকাসক্তদের রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। উনি নিজে সবটার তদারকিও করছেন। রাজ্যের মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই সম্ভবত প্রথম বিনা ব্যয়ে এই মাদকাসক্তদের জন্য রিহ্যাবের ব্যবস্থা করা হলো।’