পুরো টাকা ফেরত দিয়েছিলেন তাপস পাল, সেদিনের কোন সত্যি সামনে আনলেন শতাব্দী? | Shatabdi roy reveals unknown story of tapas paul returning show money
বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগ হোক বা নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক ছবি—‘গুরুদক্ষিণা’ থেকে ‘সাহেব’, একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন তাপস পাল ও শতাব্দী রায়। পরবর্তীতে রুপোলি পর্দার গ্ল্যামার পেরিয়ে দুজনেই পা রেখেছিলেন রাজনীতির ময়দানে, হয়েছেন সাংসদও। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় রাজনীতির বাইরের এক ঘটনার কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি তুলে ধরেন, পর্দার ‘সাহেব’ তাপস পাল বাস্তবেও কতটা বড় মনের মানুষ ছিলেন।
বহু বছর আগে সঞ্চালক শাশ্বত চট্টোপাধ্য়ায়ের সামনে স্মৃতির পাতা উল্টে শতাব্দী রায় জানান, একবার তিনি এবং তাপস পাল উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে একটি স্টেজ শো করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেদিন ওই এলাকায় একটি বড়সড় গন্ডগোলের কারণে অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজকদের। আর তারপরেই রীতিমতো ত্রাতার রূপ ধারণ করেন তাপস পাল।
কী ঘটেছিল?
শো বাতিলের পরের দিন শতাব্দী ও তাপস পালের সঙ্গে দেখা করতে আসেন, শোয়ের অরগানাইজার। কাঁদো কাঁদো গলায়, সেদিন আমাদের সে বলে, এই শো তিনি বিয়ের আংটি বন্ধক রেখে করেছিলেন। আর বাতিল হওয়ায় তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। শতাব্দীর কথায়, অরগানাইজার ছেলেটির মুখে এমন কথা শুনে, তৎক্ষণাৎ তাপস পাল যা করেছিলেন, তা অবাক করে দেওয়ার মতো।
শতাব্দী জানান, শো না হলেও নিয়ম অনুযায়ী পারিশ্রমিক বা অগ্রিম টাকা শিল্পীদের কাছেই থেকে যায়, কারণ অনুষ্ঠান বাতিলের পেছনে তাঁদের কোনও হাত থাকে না। কিন্তু ওই যুবকের বিয়ের আংটি বন্ধক রাখার কথা শুনে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি তাপস পাল। অভিনেতা তৎক্ষণাৎ ওই ছেলেকে ডেকে পাঠান। শো-এর জন্য নেওয়া সম্পূর্ণ টাকাটা তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বলেন, যেন সে অবিলম্বে টাকাটা দিয়ে নিজের বিয়ের আংটিটা বন্ধক থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। কোনও পারিশ্রমিক না নিয়েই সেখান থেকে চলে আসেন তাপস পাল।
শতাব্দী রায় তাঁর স্মৃতিচারণায় স্পষ্ট করে দেন যে, তাপস পাল যেমন একদিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দয়ালু মনের মানুষ ছিলেন, তেমনই আবার অন্য মেজাজেরও ছিলেন। শতাব্দীর কথায়, “এই হচ্ছে তাপস পাল। তবে রেগে গেলে আবার অন্যরকম মানুষ হয়ে যেতেন।”