মুঘল আমল থেকেই ‘একহারা’, ‘দোহারা’, ‘মসলন্দ’, এ বার জিআই ট্যাগ পেল সবংয়ের সেই মাদুর কাঠি
চাষ করেন ছেলেরা। আর মেয়েরা বোনেন। দুই মননের মিলনেই ৪০০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে টিকে রয়েছে সবংয়ের মাদুর শিল্প। ‘একহারা’, ‘দোহারা’ থেকে ‘মসলন্দ’! কোনওটায় দড়ির বুনন, কোনওটা আবার তৈরি সুতোর সূক্ষ্ম বুননে। সরু গোলাকার চার হাত দৈর্ঘ্যের গাঁটহীন একটি কাঠি। সেই কাঠি দিয়েই সনাতনী থেকে লুমের মাদুর বোনা চলছে ঘরে ঘরে। অতীতে সবংয়ের এই হস্তশিল্প জাতীয় স্তরে তো বটেই, আন্তর্জাতিক স্তরেও সমাদৃত হয়েছে। জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন মাদুর শিল্পীরা। এ বার জিআই ট্যাগ পেল সবংয়ের সেই মাদুর কাঠিও।
মাদুরের ইতিহাস ও মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় সম্ভবত প্রথম মাদুর বোনা শুরু হয় খড় ও নলখাগড়া দিয়ে। মুঘল আমলেও মাদুরের প্রচলন ছিল। সবংয়ের শিক্ষক অরিজিৎ দাস অধিকারী বলছেন, ‘শোনা যায়, দিল্লির সিংহাসনে যখন জাহাঙ্গির ছিলেন, তখন তাঁর সুন্দরী বেগম মেহের-উন্নিসা সম্রাটকে একটি মসৃণ মাদুর উপহার দিয়েছিলেন। সেই মসৃণ মাদুর থেকেই সম্ভবত মছলন্দ বা মসলন্দ মাদুরের জন্ম, যা আজও বোনা হয় সবংয়ে।’
মুঘল সাম্রাজ্যের সঙ্গে মাদুরের সম্পর্ক
মুঘল সম্রাজ্ঞী সবং থেকেই সেই মাদুর দিল্লির দরবারে আনিয়েছিলেন কি না বা সবংয়ের মাদুর তখন দিল্লি যেত কি না, তার কোনও প্রামাণ্য নথি আজ পর্যন্ত মেলেনি। শিল্পীরাও নিশ্চিত নন, ঠিক কোন সময় থেকে সবংয়ে মাদুর তৈরি শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, সবংয়ে মাদুর শিল্পের জন্ম সম্ভবত সার্তা গ্রামে। মসলন্দ মাদুর তৈরি করে ১৯৫২ সালে প্রথম পুরস্কৃত হয়েছিলেন সার্তার বাসিন্দা বাবুলালচন্দ্র জানা। গ্রামের মাদুর শিল্পী, ষাটোর্ধ্ব অশোক জানা বলছেন, ‘আমরা বাপ-ঠাকুরদার কাছেও গল্প শুনেছি। তাঁরাও মাদুর বুনতেন। কিন্তু কত বছর আগে জন্ম, তা আমরাও জানি না। বাপ-ঠাকুরদাও বলতে পারেননি।’