বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ৮১ ফুটের রামমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া হরিদাস চন্দ্র
গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণ করতে চেয়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। রবিবার মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ঢাকার পলাশবাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। হাওয়ালার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রবিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্রের খবর, উত্তরা পশ্চিম থানায় বাংলাদেশের সিআইডির দায়ের করা মামলার পরে গাইবান্ধা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকায় এনে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।
গত রবিবার, ১২ জুলাই সিআইডির আবেদনের পর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) ধারায় হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস-সহ অজ্ঞাতপরিচয় জনৈক আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য ও সিআইডির নির্দেশে গত ২ জুলাই অভিযোগ হরিদাসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তের পরে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের দাবি, হরিদাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং হাওয়ালার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
সিআইডির তদন্তে অভিযুক্তের নামে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর অ্যাকাউন্টের সব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ তুলে নেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।
FIR-এ এও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি নানা সময়ে নগদ টাকা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মহম্মদ সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা প্রাথমিক ভাবে হাওয়ালার টাকা বলেই সন্দেহ।
সিআইডির দাবি, অভিযুক্ত ও তাঁর সহযোগীরা হাওয়ালার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার করে অসাধু উপায়ে টাকা রোজগার করেছেন। সেই টাকায় নামে-বেনামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। প্রসঙ্গত, গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে আলোচিত ‘বৃহত্তম রামমূর্তি’ স্থাপন ও নির্মাণকাজ জুন মাসেই স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি।