এয়ারপোর্ট চত্বরের মসজিদে আপাতত নমাজ বন্ধ
এই সময়: কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে মসজিদে নমাজ আদায় আপাতত বন্ধ। আগামী সোমবার পর্যন্ত কেউ মসজিদে ঢুকতে পারবেন না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যে রাস্তা দিয়ে দ্বিতীয় রানওয়ের কাছে ওই মসজিদে যেতে হয়, বর্ষায় সেই রাস্তার হাল খারাপ। তা সারানো হবে। তাই আপাতত প্রবেশ নিষেধ।
প্রতিদিনই পাঁচ ওয়াক্ত নমাজের সময়ে ৫০–৬০ জন ১৩৬ বছরের পুরোনো ওই মসজিদে আসেন। শুক্রবার সংখ্যা বাড়ে। বিরাটির কাছে বিমানবন্দরের সাত নম্বর গেট দিয়ে লোকে ঢোকেন। গেট থেকে একটি রাস্তা আলফা ট্যাক্সিওয়ে (বিমান চলাচলের রাস্তা) টপকে দ্বিতীয় রানওয়ে পর্যন্ত গিয়েছে। সেখানেই মসজিদ। বাইরের লোক গেট দিয়ে ঢুকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বাসে আড়াই কিলোমিটার দূরের মসজিদে যাতায়াত করেন। সেই রাস্তারই হাল এখন খারাপ।
নব্বইয়ের মাঝামাঝি, কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের সময়ে দেখা যায়, মসজিদের কারণে উত্তরে আর বাড়ানো যাচ্ছে না দ্বিতীয় রানওয়ে। তাই এখনও দ্বিতীয় রানওয়ের কাঙ্খিত দৈর্ঘ্য অধরাই রয়ে গিয়েছে। রানওয়ে সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তার নিরিখে তখন থেকেই তা সরানোর প্রস্তাব ওঠে। কিন্তু প্রতিবারই তা বাতিল হয়ে যায়।
এ বার রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরে এ নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে। শনিবারে এমনই এক বৈঠকে ছিলেন মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরাও। সেখানেই তাঁদের আপাতত নমাজ আদায় বন্ধ রাখার বিষয়টি জানানো হয়।
এ দিনের বৈঠকের পরে উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদারের অভিযোগ, ‘হাই সিকিউরিটি জ়োনে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য, পরিচয়পত্র এবং বিশেষ পাসের প্রয়োজন, সেখানে এখানে কেবল আধার কার্ড দেখিয়েই লোকে ঢুকে পড়ে।’ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিসিএএস (ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি) সম্প্রতি চিঠি লিখে শুধু আধার কার্ড দেখিয়ে ভিতরে ঢোকার ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, এ ভাবে স্রেফ আধার কার্ড দেখিয়ে কেউ বিমানবন্দরের এমন ‘হাই সিকিউরিটি জ়োন’–এ কি ঢুকতে পারেন? সে প্রশ্নকে সামনে রেখে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরের কর্তাদের যুক্তি, যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও অনুমতিপত্র ছাড়া অ্যাপ্রন এরিয়া (বিমান যেখানে দাঁড়ায়)–য় ঢুকতে পারেন না, সেখানে কিছু মানুষ কী ভাবে শুধু আধার কার্ড দেখিয়ে ঢুকতে পারেন?
বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, জমি এয়ারপোর্ট অথরিটির। বিকল্প জমির প্রস্তাব দিলেও মসজিদ কমিটি মানেনি। তাঁর দাবি, বিষয়টিকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় রং দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিক্রম সিং এবং মসজিদ কমিটির পৃষ্ঠপোষক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কথা বলতে চাননি।