নারীর যৌনজীবন ও এক ‘শের’-দিলের সত্যি গল্প…
দুর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়
আচমকা আমেরিকার জনমানস থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেলেন তিনি। সময়টা ১৯৮০-র দশকের শেষ। যৌবনে আমেরিকার বিখ্যাত কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি স্কলার ছিলেন যখন, পড়াশোনার খরচ জোটানোর জন্য ‘প্লেবয়’ পত্রিকায় মডেলের কাজ করেছেন। একই সঙ্গে, প্রায় এই সময়েই নিউ ইয়র্কে নারীবাদী আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন।
‘প্লেবয়’ পত্রিকার প্রচ্ছদে ন্যুড মডেলিংয়ের জন্য পরবর্তী সময়ে প্রভূত সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু তিনি ভালোবাসতেন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে, কারণ বিশ্বাস করতেন প্রতিকৃতির নিজস্ব শক্তিতে। জার্মান চিত্রগ্রাহক আইরিশ ব্রশের তোলা প্রতিকৃতিগুলো পরবর্তী সময়ে নজর কেড়েছিল তাঁর ভঙ্গুর অথচ তীক্ষ্ণ, বুদ্ধিদীপ্ত সৌন্দর্যের কারণে। জলের মধ্যে আধশোয়া তাঁর অপরূপ ভঙ্গিমা যেন রাফায়েলো-পূর্ববর্তী সময়ে চিত্রিত ‘ওফেলিয়া’র মতো সুন্দর। কিন্তু তিনি ‘ওফেলিয়া’র মতো ভিক্টিম বা নির্যাতিতা ছিলেন না। ফুলের বদলে তাঁর হাতে থাকত কলম। দৃঢ়, নির্ভীক দৃষ্টি থাকত ক্যামেরার লেন্সে।
ছোটবেলায় বাবা-মা’র বিচ্ছেদ দেখেছিলেন। বস্তুত, নিজের বাবাকে কখনওই কাছে পাননি। মা তাঁকে দু’-দু’বার ফেলে চলে গেছিলেন। তার পর সৎ বাবার হাইট পদবি গ্রহণেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেছিলেন, বিখ্যাত ও তুমুল আলোচিতও হয়েছেন।
তিনি শার্লি ডায়ানা গ্রেগরি বা সংক্ষেপে, শের হাইট। আমেরিকান-জার্মান সেক্সোলজিস্ট। শুধুই একটি শ্রুতিমধুর নাম নয়। বোধ হয় বলা যায়, ভুলে যাওয়া একটি নাম। মহিলাদের নানা অধিকার নিয়ে আজ যখন আমরা সোচ্চার, তখন ফিরে তাকালাম শের হাইটের রেখে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কাজের দিকে। আমেরিকায় বেড়ে ওঠা এই জার্মান মহিলা ছিলেন একাধারে সেক্স এডুকেটর ও নারীবাদী। তাঁর করে যাওয়া ‘হাইট রিপোর্ট অন ফিমেল সেক্সুয়ালিটি’ নারী যৌনতার ওপর গবেষণাকৃত, রীতিমতো বিজ্ঞানসম্মত প্রামাণ্য দলিল। তিনি বরাবর বিশ্বাস করেছেন এবং বলে গেছেন, যৌনতার অধিকার বা যৌনতায় আনন্দের অধিকার শুধুই পুরুষের একচেটিয়া নয়। সেখানেও মেয়েদের বোধ, আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা ও তৃপ্ত হওয়ার অধিকার সমান ভাবে যুক্তিগ্রাহ্য। ৪৭৮ পাতার এই রিপোর্ট বই আকারে প্রকাশ পাওয়ার পরে ৫০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয় এবং বেস্টসেলারের স্বীকৃতি পায়।
ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে আজও যৌনশিক্ষাকে ঘিরে ট্যাবু, বিরোধিতা ও পর্যালোচনা তুঙ্গে থাকে। মেয়েদের যৌনতার বোধ ও অধিকার নিয়ে আলোচনা আজও লজ্জার ও কুণ্ঠার বিষয়। এই কুণ্ঠাকেই ভূষণ মনে করার দলে মহিলা ও পুরুষ উভয়ই আছেন। অনস্বীকার্য যে, তার যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান। প্রাচীন গাথা খুঁজলে সেমোনিড নামে গ্রিক কবির লেখায় পাওয়া যায় দশ রকম মহিলার অস্তিত্বের কথা। যথা শূকর মহিলা— যারা শুধু খেতে ও পরিষ্কার করতে ভালোবাসে। শেয়াল মহিলা— যারা কৌতূহলী ও পর্যবেক্ষক। গাধা মহিলা— যাদের যৌন-আকাঙ্ক্ষা তীব্র। কুকুর মহিলা— যারা স্বভাবতই অবাধ্য। তা ছাড়াও, ঝোড়ো সামুদ্রিক মহিলা, লোভী পার্থিব মহিলা, আলসে ঘোড়া মহিলা, চোর উইজ়ডেন প্রকৃতির মহিলা, কুৎসিত দর্শন এপ মহিলা, এবং একমাত্র ভালো প্রজাতি— কঠোর পরিশ্রমী মক্ষী মহিলা। পুরুষদের দিকে তাকান, শুধুই প্রশংসার ও গৌরবের বিভাগ।
ব্রিটিশ লেখক ডেইজ়ি ডান তাঁর লেখায় বলেছেন, এঁদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোধ হয় যৌন-আকাঙ্ক্ষায় ভরপুর গাধা মহিলারা, কারণ তা চারপাশের নারীবিদ্বেষের ধারণার সঙ্গে পরিপূর্ণ ভাবে খাপ খেয়ে যায়। সুতরাং এ সবের পরে প্রশ্ন থেকেই যায় যে, কামনার্ত মহিলা কি শুধুই পুরুষের কল্পনায় বিরাজ করতেন? না কি মহিলারাও আক্ষরিক অর্থে নিজস্ব যৌনতায় আগ্রহী ছিলেন? মুশকিল হচ্ছে, বেশির ভাগ প্রামাণ্য দলিলই পুরুষ-লিখিত। তবু কিছু ‘ক্লাসিক’ মহিলার বর্ণনায় আমরা যৌন-আকাঙ্ক্ষার কথা পাই। স্যাফো তাঁদের মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়াও আছেন থিয়োনা নামে এক গ্রিক মহিলা দার্শনিক, যাঁকে অনেকে পিথাগোরাসের স্ত্রী বলেও পরিচয় দিয়েছেন। থিয়োনা সেই খ্রিস্টপূর্ব ৪১১ অব্দে দাঁড়িয়ে বলে গেছেন, মেয়েরা যে মুহূর্তে তাঁদের স্বামীর কক্ষে প্রবেশ করেন, তাঁদের উচিত পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে লজ্জাও খুলে রাখা, যাতে তাঁদের যৌন-অভিজ্ঞতা মনোরম হয়। সেই বর্ণনাও তিনি দিয়ে গেছেন। লজ্জাই নারীর ভূষণ, সে কথা মানতে চাননি থিয়োনা-রা।
এর বহু বছর পরে, এই সে দিন, শের হাইট প্রায় বিপ্লব করে ফেলেছেন তাঁর গবেষণার মাধ্যমে। মহিলাদের যৌন-আকাঙ্ক্ষা এবং যৌনতায় তৃপ্তি-অতৃপ্তির কথা তিনি লিখে গেছেন দ্বিধাহীন ভাবে, তাঁর গবেষণাপত্রের পাতায় পাতায়। সংখ্যাতত্ত্বজনিত কিছু ভুল থাকলেও, হাইট তাঁর সমীক্ষার মাধ্যমে, মেয়েদের যৌনতাকে ঘিরে বিদ্যমান অসংখ্য ভ্রান্ত ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত ৪৭৮ পাতার এই বইয়ে তিনি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন ৩,০০০টি প্রশ্নের উত্তর, যা তিনি সংগ্রহ করেছিলেন ১৪-৭৮ বছর বয়সি বিভিন্ন মহিলার থেকে। যৌনতা সংক্রান্ত বাকি যা যা প্রমাণ্য গবেষণাপত্র পাওয়া যায়, যেমন কিনসে রিপোর্ট এবং মাস্টার্স ও জনসনের করে যাওয়া বিজ্ঞানভিত্তিক কাজ, তাদের মতোই হাইটের রিপোর্টেও পাওয়া যায় সমীক্ষাজনিত সংখ্যাতত্ত্বের অসংখ্য বিশ্লেষণ। কিন্তু সংখ্যাতত্ত্বকে ছাপিয়ে যা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দেয়, তা হলো বহু মহিলার যৌন-অভিজ্ঞতার নথিবদ্ধ বর্ণনা, সমাজতত্ত্বের বিশ্লেষণে যা আজও গুরুত্বপূর্ণ।
হাইটের লক্ষ্য ছিল, এই বইয়ের মাধ্যমে নারী-যৌনতার একটি নতুন তত্ত্বকে তুলে ধরা, যা যৌন-সুড়সুড়ি বর্জিত এবং সম্পূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক। তিনি বিভিন্ন মহিলাকে সাক্ষাৎকারে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁরা যৌন সংযোগ এবং ক্রিয়াকলাপের সময়ে কী অনুভব করেছেন, এবং সর্বোচ্চ যৌনতৃপ্তির (অর্গ্যাজ়ম) অনুভূতি কেমন ছিল।
তাঁর গবেষণালব্ধ ফল থেকে হাইট যৌনতাকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেন, এবং তিনিই প্রথম বলেন, যৌনতা আসলে সংস্কৃতির মাধ্যমে স্বীকৃত, সামাজিক অভ্যেস দ্বারা তৈরি হওয়া ধারণাবিশেষ, যা বায়োলজিক্যাল নয়। সুতরাং, হাইটের গবেষণা নারী-যৌনতা সংক্রান্ত সমগ্র সামাজিক ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করে। তাঁর দেওয়া তথ্য থেকেই জানা যায়, মহিলারা অর্গ্যাজ়মের প্রয়োজন অনুভব করতেন প্রধানত পুরুষসঙ্গীকে খুশি করার জন্য। তা ছাড়া, কিছু মহিলা মনে করতেন, নিজেকে পরিপূর্ণ নারী হিসেবে জানার জন্যও অর্গ্যাজ়ম প্রয়োজনীয়। অনেকে অর্গ্যাজ়মের অনুপস্থিতিতে নিজেদের ব্যর্থ, খাটো, অনুভূতিহীন বা অস্বাভাবিক মনে করেছেন।
হাইটের রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলারা অর্গ্যাজ়মের অনুপস্থিতিকে অস্বাভাবিক ভাবতেন এবং মনে করতেন তাঁর চিকিৎসা প্রয়োজন। এই মনোভাব তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির দৃঢ় প্রভাব ছিল। কারণ সমাজ ভাবতে বাধ্য করত, এটা তাঁদের ত্রুটি। এমনকী রিপোর্ট এই তথ্যও দিচ্ছে যে, সেই সময়ে মনে করা হতো মহিলারা সর্বদাই যৌনতার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। যদি তাঁরা তা না থাকতেন, তা হলে পুরুষসঙ্গীরা তাঁদের ‘মানসিক ভাবে ধ্বস্ত’ আখ্যা দিতেও কসুর করতেন না।
হাইট রিপোর্ট ১৯৬০-এর যৌন বিপ্লবের বিষয়গুলিতে আলোকপাত করেছিল। এবং দেখিয়েছিল, নারী-যৌনতা মহিলাদের অনুভূতি ও উপভোগের চেয়েও বেশি আলোচিত হয় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পরিসরে। আবার কোনও মহিলা যদি যৌনতায় একাধিক অর্গ্যাজ়ম এবং স্বমেহনে আগ্রহী হতেন, তা হলে তাঁকে লোভী ও অত্যধিক চাহিদাসম্পন্ন আখ্যা দেওয়া হতো, কারণ পুরুষেরা একটি যৌন সংসর্গ থেকে একটিই অর্গ্যাজ়ম পান। এই রিপোর্টের কারণে হাইট স্বাভাবিক ভাবেই প্রবল সামাজিক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হন এবং পুরুষ-বিদ্বেষী আখ্যা পান। যদিও তাঁর পরবর্তী গবেষণা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয় ‘হাইট রিপোর্ট অন মেল সেক্সুয়ালিটি’ নামে, যার বিষয় ছিল পুরুষ-যৌনতা।
হাইট তাঁর গবেষণার মধ্য দিয়ে বারবার বলতে চেয়েছেন, মহিলারা বরাবর যৌনতার ক্ষেত্রে প্রচলিত সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত। তাই তিনি যৌনতাকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চেয়েছিলেন, যেখানে শুধুমাত্র একটি বিষমকামী সম্পর্ককেই মুখ্য সূচক হিসেবে ধরা হবে না।
পরের বছরগুলোতে হাইট তাঁর গবেষণাধর্মী অন্য কাজগুলো প্রকাশ করেন, যেমন ‘হাইট রিপোর্ট অন উইমেন অ্যান্ড লাভ’, নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেখানে তিনি দেখিয়েছিলেন, ৯৮% আমেরিকান মহিলা মনে করেন, তাঁদের যৌন জীবন অসম্পূর্ণ! খুব স্বাভাবিক ভাবেই এর পর হাইট নটোরিয়াস মহিলা হিসেবে পরিগণিত হন। ১৯৯৪-এ তিনি প্রকাশ করেন ‘হাইট রিপোর্ট অন ফ্যামিলি’। পরিবারতন্ত্র বিষয়ক এই গবেষণায় তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন যে, চিরাচরিত পিতৃতান্ত্রিক পরিবারগুলোর চেয়ে একক অভিভাবকত্বের পরিবারে শিশুদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে বেশি। শের তাঁর রিপোর্ট ও বইগুলির জন্য তুমুল খ্যাতি অর্জন করেন। কিন্তু সে খ্যাতি ম্রিয়মান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, আটের দশকের শেষে প্রবল সামাজিক প্রতিক্রিয়ার কারণে শের হাইট স্বেচ্ছায় আমেরিকা ছেড়ে ইউরোপে নির্বাসন নেন।
সারা জীবন ধরে বিভিন্ন সময়ে নিজের যাপন দিয়ে যে কোনও আধিপত্য, নিপীড়ন ও আরোপিত দৃষ্টিভঙ্গির বিপক্ষে মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছেন শের। ব্রিটিশ লেখিকা জোয়ানা ব্রিসকো লিখেছেন, ১৯৯০ সালে জনরোষের কারণে হাইট তাঁর আমেরিকান নাগরিকত্ব ছেড়ে ইউরোপিয়ান হয়ে যান, এবং লন্ডনের উত্তরে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে একফালি ম্যাট্রেসে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু আর্থিক দৈন্য তাঁর ভাবনা বা যাপনকে বদলাতে পারেনি। জোয়ানার বয়ানে, সারা রাত লিখতেন আর সারা দিন ঘুমোতেন শের। সংবাদমাধ্যমের প্রবল আক্রমণ, প্রকাশ্য অপমান— কোনও কিছুই তাঁকে দমাতে পারত না। বরং বিশ্বাস করতেন নিজের স্বাধীনতায়, নিজস্ব গ্ল্যামারে। জনসমক্ষে তাঁর আকর্ষণ ছিল চুম্বকীয়। সেই সময়ে তথাকথিত নারীবাদী সাজপোশাকের ধারণা কখনও মান্যতা পায়নি শেরের কাছে। নিজের গ্ল্যামারকে তিনি উদযাপন করতেন। তাঁর যাতায়াত লেগেই থাকত প্যারিস, রোম ও লন্ডন ঘিরে। নিজেকে সাংস্কৃতিক ইতিহাসবিদ বলতে পছন্দ করতেন। রাত জেগে নতুন থিয়োরি ঘষামাজার বাইরে পছন্দের কাজ ছিল হার্ভি নিকলস-এ গিয়ে দামি দামি শপিং। একবার লন্ডন থেকে হামবুর্গ উড়ে গেছিলেন শুধু নতুন ধরনের কেশসজ্জা করবেন বলে। কারণ তিনি মনে করতেন, তাঁর ব্যক্তিত্বের কেন্দ্রে আছে তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্ট। নিজের বক্তব্যে ও লেখায় অক্লান্ত ও দ্বিধাহীন ভাবে তিনি ব্যবহার করে গেছেন ক্লিটোরিস ও মাস্টারবেশন-এর মতো শব্দবন্ধ ।
ইউরোপে জনপ্রিয় হলেও এশিয়ায় শেরকে নিয়ে বা তাঁর কাজ ঘিরে মাতামাতি হয়নি কখনও। ভারতে অধিকাংশ মহিলা এখনও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নন। শহুরে শিক্ষিত মহিলা ব্যাতীত সংখ্যাগরিষ্ঠই ‘যৌন অধিকার’ শব্দবন্ধের সঙ্গে পরিচিত নন। গ্রামেগঞ্জে মহিলারা— হয়তো বা শহরেও— যৌনতার ক্ষেত্রে তাঁদের পুরুষসঙ্গীর ডাকে ‘না’ বলতে পারেন না। যে মহিলা সারা দিন ধান কাটার কাজ করেন দৈনিক মজুরিতে, বা ইটভাটায় মজদুরি করেন, তাঁর ক্লান্তি তাঁকে ছাড় দেয় না। স্বামী ডাকলে তাঁকে যৌনতায় সাড়া দিতেই হয়। বা ঋতুস্রাবের সময় তাঁর অনিচ্ছা গুরুত্ব পায় না, যদি স্বামী বা পুরুষসঙ্গী যৌন মিলন চান। একই ক্ষেত্রে এমন উদাহরণও পাওয়া গেছে— সদ্য বিবাহিতা তরুণী মেয়েটি ঋতুমতী হয়েও স্বামীর সঙ্গে রাত কাটাতে চায়, কিন্তু শাশুড়ি তাঁকে সেই সময়ে স্বামীর কাছে যেতে দেন না।
এ দেশে মেয়েদের যৌন-আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও উপভোগের ধারণা চিরলাঞ্ছিত। আজ যখন সমাজবিজ্ঞানীরা নতুন করে মহিলাদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের অধিকার নিয়ে কথা বলছেন, তখন শের হাইটও নতুন করে উল্লিখিত হওয়ার দাবি রাখেন বইকি!