Alok Nath: “Me Too” বিতর্কের জেরে হয়ে যান গায়েব, জানেন এখন কোথায় আছেন অলোক নাথ? | Alok nath life after metoo allegations rajesh puri reveals
বহু বছর ধরে হিন্দি সিনেমার জগতে অন্যতম পরিচিত এক পিতৃসুলভ মুখ ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অলোক নাথ। বলিপাড়ায় তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন বলিউডের “সংস্কারি বাবুজি” (Sanskari Babuji) হিসেবে। তবে ২০১৮ সালের ‘মি টু’ (#MeToo) আন্দোলনের সময় একাধিক মহিলার তোলা যৌন হেনস্থার অভিযোগে নাম জড়ানোর পর থেকেই তিনি লাইমলাইট থেকে প্রায় গায়েব। এই বড় বিতর্কের পর অভিনেতার বর্তমান জীবন ঠিক কেমন কাটছে, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধু তথা অভিনেতা রাজেশ পুরী। তিনি জানিয়েছেন, ওই অভিযোগগুলো অলোক নাথের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং এই অভিজ্ঞতা তাঁকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাজেশ পুরী জানিয়েছেন, বর্ষীয়ান এই অভিনেতা এখন চলচ্চিত্র জগৎ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছেন। অলোক নাথ বর্তমানে অত্যন্ত শান্ত, একাকী জীবনযাপন করছেন এবং বাড়ি থেকে খুব একটা বের হন না। রাজেশের কথায়, “যখন অলোক নাথের বিরুদ্ধে ‘মি টু’-র অভিযোগ উঠেছিল, তখন সবাই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল কারণ ও একজন ‘সংস্কারি’ অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিল। ওই ঘটনার পর ও নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেয়। ইন্ডাস্ট্রি থেকে ও একপ্রকার অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে এবং বেশিরভাগ সময় নিজের বাড়িতেই বন্দি থাকে।”
অলোক নাথের এই যন্ত্রণাদায়ক সফরের কথা উল্লেখ করে রাজেশ স্বীকার করেছেন যে, তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু হয়তো অতীতে কিছু ভুল করেছিলেন। তবে এত কিছুর পরেও তিনি বিশ্বাস করেন যে অলোক মনের দিক থেকে অত্যন্ত ভালো এবং দয়ালু একজন মানুষ। তিনি যোগ করেন, “অলোক খুব পরিষ্কার মনের মানুষ। ও এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। এমনকী, এখন ও আর মদ্যপানও করে না। ও ভীষণ ভালোবাসতে জানা একজন মানুষ, তবে ওর দুটি সমস্যা ছিল। প্রথমত, ও নিজেকে বিরক্ত করে এমন কিছু সহ্য করতে পারত না, আর দ্বিতীয়ত, মদ। ও খুব মারাত্মক মদ্যপান করত, যা ওর জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।”
রাজেশ আরও জানান, একসঙ্গে বহু আউটডোর শুটিং শিডিউলে কাজ করলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনও অলোক নাথকে কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে দেখেননি। তবে মদ খাওয়ার পর অভিনেতার আচরণ সম্পূর্ণ বদলে যেত বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, মদ খাওয়ার পর অলোক নাথ “ভীষণ আক্রমণাত্মক এবং উগ্র” হয়ে উঠতেন। রাজেশ জানান, অলোক নাথ এখন অভিনয় থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং মানুষের সঙ্গে কথাবার্তাও খুব একটা বলেন না। অনেকবার নিজের ফার্মহাউসে আসার আমন্ত্রণ জানালেও অলোক প্রতিবারই তা এড়িয়ে গিয়েছেন বলে জানান রাজেশ।
রাজেশ পুরীর কথায়, “আমি ওকে বলি, ‘বাড়িতে আয়, চল আমাদের ফার্মহাউসে দেখা করি।’ ও স্রেফ এড়িয়ে যায়। মাঝে মাঝে ফোনে খুব সুন্দর কথা বলে, তবে প্রায়ই ওর মনে হয় যে একটা ভালো প্রতিভা এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ও এখন অভিনয়ের কোনও অফার গ্রহণ করে না, বলে ও নাকি বাড়ি থেকেই কাজ করছে। তবে আমার মনে হয় না ও এই মুহূর্তে খুব বেশি কাজ করছে, কারণ ভেতর থেকে ও গভীরভাবে আঘাত পেয়েছে।”
রাজেশ আরও জানান যে, জীবনের এই কঠিন সময়ে মানসিক শান্তি ও সান্ত্বনা খুঁজতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকেছেন অলোক নাথ। তিনি বলেন, “যা ঘটে গিয়েছে, তা ঘটে গিয়েছে। আগুন ছাড়া তো আর ধোঁয়া বেরোয় না। ও নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত, আর যা ঘটেছিল তা কোনওভাবেই ভালো ছিল না। এখন ও আর কারও মুখোমুখি হতে চায় না। আমরা দুজনেই একজন গুরুজিকে মানি, অলোকও এখন তাঁর দেখানো পথেই চলছে। ও গুরুজির সান্নিধ্যে এসেছে ঠিকই, কিন্তু যখন কোনও সৎসঙ্গের আয়োজন করা হয়, তখনও ও সেখানে আসে না।”