US-Iran War: মার্কিন হামলায় মৃত্যু ১৪ জনের, পাল্টা জবাবে আমেরিকার বন্ধু দেশে পরপর মিসাইল হানা ইরানের, কী পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে? | US Airstrikes Near Iran Nuclear Plant, Tehran Fires Missiles at Gulf Allies Amid Rising Middle East Tensions
তেহরান ও ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের অভিঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বুধবার মধ্যরাতের পর ফের বৃহস্পতিবার ইরানের উপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা (Iran-US War)। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুশেহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আমেরিকাই (Iran missile attack on America) এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সংবাদমাধ্যমে। পাশাপাশি দক্ষিণ ইরানের একাধিক বন্দর শহরেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। গত দুই দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, আমেরিকা হামলার অভিঘাত বাড়ালে ফল ভালো হবে না। আমেরিকাকে জবাব দিতে ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলিকে (পশ্চিম এশিয়ার দেশ) পরপর মিসাইল হানা ইরানের। উল্লেখ্য, খামেনেইয়ের শেষ যাত্রার দিনই পাল্টা প্রত্যাঘাত করল তেহরান।
পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলার আশঙ্কা
ইরানের পাল্টা হামলার জেরে বাহরিন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডনে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাহরিনে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর রয়েছে, সেখানে অন্তত তিনবার সাইরেন বেজেছে। কুয়েত ও কাতারের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, জর্ডনে দুপুরে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজে। সেদেশের সরকার জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরিনও একই দাবি করেছে। কুয়েতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, একটি ক্রুজ মিসাইল এবং ১০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি সেদেশের সেনার। জানা গিয়েছে, ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত একজন আহত হয়েছেন।
৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের মোট ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার ভিডিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ওই ভিডিওতে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসের ছবি দেখানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
নিহত ১৪, আহত ৭৮
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, গত দু’দিনের মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহত ও নিহতদের অধিকাংশই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের উপর হামলা চালিয়েছে ইরান। তারপরই যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কড়া জবাব দেওয়া হবে। তারপরই ইরানকে লক্ষ্য করে পরপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আমেরিকা। ফের নতুন করে শুরু হয় সংঘর্ষ। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা
ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আবার এমন হামলা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।” পাশাপাশি ইরানের বিদ্যুৎ ও লবণাক্ত জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের কড়া বার্তা, “আমেরিকা এখনও শেখেনি যে দাদাগিরি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য কতটা দিতে হয়। আপনারা হামলা করলে, পাল্টা হামলার মুখেও পড়বেন।”
এদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ওমান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে, নয়া দিল্লির তরফেও সব পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।