নিষেধ সত্ত্বেও তৃণমূল নেতাকে ছোড়া হলো ডিম, চাঞ্চল্য রামনগরে
এই সময় রামনগর: বিজেপির একাধিক নেতা–মন্ত্রী এর বিরুদ্ধে। তার পরেও ডিম ছুড়ে মারার ঘটনায় রাশ টানা যাচ্ছে না। রামনগর ২ ব্লকের বালিসাই ভূমি দপ্তরের সামনে ফের ডিমের আক্রমণের মুখে পড়তে হলো রামনগর–২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষকে। তৃণমূল নেতার মাথায় ডিম ছোড়ায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতার দাবি, ‘সরকারি অর্ডার, তাই ছুঁড়েছি।’ ডিম ছোড়ার ওই ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়)।
সত্তোরোর্ধ মানস দাস রামনগর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। পরপর চার বারের কর্মাধ্যক্ষ তিনি। সূত্রের খবর, বুধবার দুপুরে রামনগর–২ ব্লকের বালিসাই ভূমি দপ্তরের সামনে এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় মানস ব্লক ভূমি দপ্তর থেকে বেরিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎই তাঁর উপরে ডিম নিয়ে হামলা চালান রামনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপির সুব্রত জানা। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় ডিম ছোড়া নিয়ে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘সরকারি অর্ডার আছে’। ডিম ছোড়ার পরে পঞ্চায়েত সমিতির এক কর্মাধ্যক্ষ ও বিরোধী দলনেতার মধ্যে তর্কের ছবিও ধরা পড়েছে ভিডিয়োয়। প্রকাশ্য রাস্তায় ডিম ছোড়ার প্রতিবাদ করতেও দেখা গিয়েছে ভিডিয়োয়।
তবে দলীয় নেতার এমন মন্তব্যের দায় নিতে অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, ‘কাউকে ডিম মারার কোনও সরকারি অর্ডার নেই। দলেরও কোনও নির্দেশ নেই। যদি কেউ এমন কথা বলে থাকেন, তাহলে উনি মিথ্যা বলেছেন। দল এমন ঘটনা সমর্থন করে না। মনে হয় ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে।’ আক্রান্ত মানস বলেন, ‘কেন বিরোধী দলনেতা এমন হামলা চালালেন বুঝতে পারছি না। উনি দু’জন সঙ্গীকে নিয়ে ডিম ছুড়েছেন। মোবাইলে ভিডিয়ো তুলে ভাইরালও করেছেন।’ আর সুব্রতর সাফাই, ‘মানস দাস আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত লোক। এর আগে ভূমি কর্মাধ্যক্ষ থাকার সময়ে সরকারি খাস জমি বিক্রি, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত সাজিয়ে তাঁর জমি বিক্রি থেকে অবৈধ নির্মাণ––নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তারই প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
রামনগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা অখিল গিরি বলেন, ‘কেউ দুর্নীতিগ্রস্ত হলে আইন আছে। প্রমাণ নিয়ে অভিযোগ জানান। আইন হাতে তুলে নেওয়াটা কতটা সঠিক বিজেপি নেতারাই বলতে পারবেন।’