হাওড়া থেকে বর্ধমান, রাজ্যজুড়ে ইডির ম্যারাথন হানা
চিটফান্ড সংক্রান্ত একটি আর্থিক দুর্নীতির মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED RAID) (ইডি)। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া…
চিটফান্ড সংক্রান্ত একটি আর্থিক দুর্নীতির মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED RAID) (ইডি)। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান-সহ বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযানে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটি কথিত চিটফান্ড সংস্থার মাধ্যমে বেআইনি বিনিয়োগ প্রকল্প চালিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগের তদন্তেই এই তল্লাশি চলছে।
সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত সংস্থাটি (ED RAID) উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিল। পরে সেই অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর্থিক লেনদেনের গতিপথ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডির আধিকারিকরা।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর (ED RAID) মহকুমার অন্ডালেও এদিন অভিযান চালায় ইডি। অন্ডাল স্টেশন সংলগ্ন বাসকা এলাকার বাসিন্দা রাম মল্লিকের বাড়িতে সকাল থেকেই তল্লাশি শুরু করেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়্গপুরের একটি চিটফান্ড সংস্থার সঙ্গে এই মামলার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, ওই সংস্থা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করেছিল। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই রাম মল্লিকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাম (ED RAID) মল্লিকের বাবা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। সকাল থেকে ইডির আধিকারিকরা বাড়িতে নথিপত্র পরীক্ষা করেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। যদিও এই তল্লাশি থেকে কী উদ্ধার হয়েছে বা রাম মল্লিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইডির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, হুগলি জেলার শেওড়াফুলিতেও সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পৌঁছে যায় ইডির একটি দল। স্থানীয়দের দাবি, পল্টু বড়ালের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, এই পরিবারের এক সদস্য খড়্গপুরে একটি চিটফান্ড সংস্থা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে এদিনের অভিযানের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য ছিল না। তদন্তকারী আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে নথিপত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খতিয়ে দেখেন।
হাওড়াতেও একই সময়ে অভিযান চালায় ইডি। শহরের ৪/১ কুচিল সরকার লেনের একটি আবাসনে পৌঁছন তদন্তকারীরা। স্থানীয়দের দাবি, ওই আবাসনে সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, একটি ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য এবং ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা।