জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
ইমামির সরে দাঁড়ানোর পর জুপিটার ওয়াগনসের সহযোগিতায় নতুন মরশুমের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। কোচ, নতুন সই ও এএফসি চ্যালেঞ্জে জোর দিচ্ছে ক্লাব।
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ইনভেস্টর পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে নতুন মরশুমের প্রস্তুতিতে এক মুহূর্তও নষ্ট করছে না ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। দীর্ঘদিনের সহযোগী সংস্থার সরে দাঁড়ানোর পরেও ক্লাব কর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে দলের লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষায় কোনও ভাটা পড়বে না। বরং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে লাল-হলুদ (East Bengal) শিবির।
আগস্টে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর বাছাইপর্বে কুয়েতের আল আরাবির মুখোমুখি হবে দল। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কথা মাথায় রেখেই মাঠের বাইরের প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে ফুটবলার বাছাই, সব ক্ষেত্রেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। নতুন বিনিয়োগ কাঠামোর মধ্যে দলের গঠনপ্রক্রিয়ার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি রেলওয়ে ওয়াগন প্রস্তুতকারক সংস্থা জুপিটার ওয়াগনস। তাদের সক্রিয় সহযোগিতায় ক্লাবের পরিকল্পনা নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেছে।
আরও পড়ুন:
জুপিটার ওয়াগনস ও ইস্টবেঙ্গলের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মুরারি লাল লোহিয়া ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন এবং সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার সময়ে তিনিই দল গঠনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ক্লাব কর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে বিনিয়োগকারী বদলের প্রভাব যেন ফুটবল দলের ওপর না পড়ে। ফলে নতুন মরশুমের জন্য প্রয়োজনীয় ফুটবলার সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
কোচিং বিভাগেও এসেছে বড় পরিবর্তন। গত মরশুমের কোচ অস্কার ব্রুজ়নের বিদায়ের পর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের হাতে। ভারতীয় ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা হাবাসের ওপরই এখন ঘরোয়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মহাদেশীয় মঞ্চে সাফল্যের ভার। নতুন কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী দলকে সাজানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ফুটবলার নিয়োগের ক্ষেত্রেও ক্লাব যথেষ্ট সক্রিয়। মিডফিল্ডার আয়ুষ ছেত্রী এবং ফরোয়ার্ড রহিম আলিকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা এখনও বাকি, তবু দুই ফুটবলারকে পাওয়ার ব্যাপারে ক্লাব আশাবাদী। অন্যদিকে ভারতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তাঁকে পেতে একাধিক ক্লাব আগ্রহী হলেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগামী দিনে আরও কয়েকজন নতুন ফুটবলারের নাম ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কারণ সামনে রয়েছে অত্যন্ত ব্যস্ত সূচি। ১২ জুলাই থেকে শুরু হবে প্রাক-মরশুম অনুশীলন। হাতে সময় কম থাকায় নতুন কোচকে অল্প সময়ের মধ্যেই ফুটবলারদের মানিয়ে নিয়ে নিজের কৌশল কার্যকর করতে হবে। তার ওপর মরশুমের শুরুতেই ডুরান্ড কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ডার্বি এবং এরপর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গুরুত্বপূর্ণ বাছাইপর্বের ম্যাচ অপেক্ষা করছে।
আরও পড়ুন:
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘিরে কিছু প্রশ্ন থাকলেও ক্লাবের কার্যকলাপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে তারা প্রতিযোগিতামূলক দল গঠনে বদ্ধপরিকর। নতুন নেতৃত্ব, সম্ভাব্য শক্তিশালী সংযোজন এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনাকে পুঁজি করে ইস্টবেঙ্গল আসন্ন মরশুমে একাধিক ট্রফির লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।