শিয়ালদহ AC লোকালে সিটিং ক্যাপাসিটির চেয়েও বেশি যাত্রী, কেন এত জনপ্রিয়?
বনগাঁ শাখার এসি লোকাল—প্রথম দিকে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা সংশয় থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিও বদলেছে। জুন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, এই ট্রেনে সফর করেছেন ৮১,৩৩২ জন। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩,১২৮ জন যাত্রী এই পরিষেবা ব্যবহার করেছেন। অথচ ট্রেনটির দৈনিক সিটিং ক্যাপাসিটি ২,২৩২। ফলে গড়ে ১৪০ শতাংশ যাত্রী দখল নিয়ে ছুটেছে বনগাঁ শাখার এসি লোকাল। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৯৬ জন বেশি যাত্রী সিটিং ক্ষমতার তুলনায় এই ট্রেনে সফর করেছেন। কয়েকটি দিনে যাত্রীর সংখ্যা ১৮৫ থেকে ১৮৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা এই পরিষেবার বাড়তে থাকা চাহিদার স্পষ্ট ইঙ্গিত। আয়ের নিরিখে জুন মাসে ৬২.৩৬ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে রেলের।
কৃষ্ণনগর শাখার এসি লোকালের চিত্রটা কেমন? জুন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, এসি পরিষেবা চলাকালীন এই ট্রেনে মোট ৬১,৭৯৭ জন যাত্রী সফর করেছেন। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,৪৭২ জন যাত্রী AC লোকাল বেছে নিয়েছেন। যেখানে দৈনিক সিটিং ক্যাপাসিটি ২,২৩২, সেখানে গড় যাত্রী উপস্থিতি পৌঁছেছে প্রায় ১১১ শতাংশে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে সিটিং ক্ষমতার চেয়েও বেশি যাত্রী এই পরিষেবা ব্যবহার করেছেন। জুন মাসে এই ট্রেন থেকে আয় হয়েছে ৪৮ লক্ষ টাকারও বেশি।
বিভিন্ন শাখার এসি লোকাল ঘুরে এটা স্পষ্ট, মানুষ একটু স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজে বেশি টাকা খরচ করতে রাজি। অনেকে হয়তো বনগাঁ বা নৈহাটি বা রানাঘাট থেকে মোটা টাকায় গাড়ি ভাড়া করে কোনও রোগীকে কলকাতায় নিয়ে আসতেন, তারাও অবস্থা বুঝে এই লোকালে রোগীকে আনছেন। সেটা যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমন খরচ অনেকটাই কম হচ্ছে। এই মুহূর্তে শিয়ালদহ মেন, বনগাঁ, বারাসত মিলিয়ে মোট ছ’জোড়া ট্রেন চলছে। ভাড়া কেমন? বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ এসি লোকালের ভাড়া ১২০ টাকা, রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ ১২০ টাকা ভাড়া। আর মান্থলি যথাক্রমে ২৪৩০, ২৪৪০ টাকা। অর্থাৎ ৮১ টাকা দিন প্রতি।
সাধারণ ট্রেনের ভাড়ার প্রায় ৮ থেকে ৯ গুন বেশি ভাড়া এই ট্রেনের। অনেক সময় যাত্রীদের বসার জায়গাও মেলে না। তার পরেও কেন এই ট্রেন পছন্দের? অফিসযাত্রী দেবময় পাল, শ্রেষ্ঠা দাস বলেন, ‘এই ট্রেনে স্পেস বেশি। ভিড় হলেও সেটা গাদাগাদি করার মতো নয়।’