মমতার চড় খেলেন দলেরই ‘পুরনো সৈনিক’! কে এই বাপি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

মমতার চড় খেলেন দলেরই ‘পুরনো সৈনিক’! কে এই বাপি?

Spread the love

কলকাতা: বুধবার বিকেলে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহর। আহত দলীয় কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানোর তোড়জোড়ের মাঝে ভিড় সামলাতে গিয়ে এক…

কলকাতা: বুধবার বিকেলে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহর। আহত দলীয় কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানোর তোড়জোড়ের মাঝে ভিড় সামলাতে গিয়ে এক দলীয় কর্মীকে সপাটে চড় মারলেন তৃণমূল নেত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি সাপেক্ষে এদিন বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। মিছিলে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ নেত্রীর। তাঁর দাবি, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিজেপি কর্মীরা ইট ও ডিম ছুড়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন-সহ একাধিক মহিলা কর্মী জখম হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য নেত্রীর বাড়ির সামনে চরম বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

চড় ও মারধরের ঘটনা

পরিস্থিতি সামাল দিতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে নিজেই রাস্তায় নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তা পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি বারবার ভিড় সরানোর নির্দেশ দিচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই ‘বাপি’ নামে এক স্থানীয় দলীয় কর্মীকে সপাটে চড় মারেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মী এবং পেশায় রেলকর্মী। চড়ের চোটে তাঁর চশমা খুলে পড়ে যায়। শুধু ওই কর্মীই নন, ভিড় সামলাতে গিয়ে আরও বেশ কয়েকজনকে পিঠে কিল-ঘুঁষি মারতেও দেখা গেছে নেত্রীকে।

দলীয় নেতাদের ব্যাখ্যা

নেত্রীর এই আচরণের তীব্র সমালোচনা শুরু হলেও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব একে ‘শাসন’ হিসেবেই দেখছেন। প্রাক্তন কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওটা কোনো ঘটনাই নয়। অভিভাবক হিসেবে বাড়ির বড়রা যেভাবে শাসন করেন, উনিও দলের কর্মীদের সেভাবেই শাসন করেছেন।’’ কুণাল ঘোষের গলায় সুর মিলিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মা যেভাবে সন্তানকে শাসন করেন, এও ঠিক তাই। আহতকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য গাড়ি বের করতে গিয়ে ভিড় হওয়াতেই এই শাসন।’’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বারুইপুরের ঘটনা থেকে শুরু করে মিছিলের বিশৃঙ্খলা, সব মিলিয়েই তৃণমূল নেত্রী মানসিক চাপে ছিলেন। সেই চাপের বহিঃপ্রকাশই কালীঘাটের রাস্তার এই ‘চড়’ বা ‘শাসন’। ঘটনাটি সামনে আসতেই বিরোধীরা অবশ্য নেত্রীর মেজাজ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *