জিআই ট্যাগ পেল কবিগুরু-লালন যোগের ‘সূত্রধার’ একতারা
তবে এ গান আর শেষ হলো না। মাঝপথেই থেমে গেল। ঘোরের মধ্যেই রাখাল দাস বললেন, ‘বাউলের পথ হলো একতারা। তা খ্যাপা জানো কী এই একতারা?’ — কী? জিজ্ঞেস করেছিলাম। বললেন, ‘একতারা হলো একতানে নিজেরে বেঁধে ফেলা — গানে। মানে।’ বলেই আবার সেই মিটিমিটি হাসি। তবে পাশে বসে থাকা আর এক সাধক রাজু দাস আর ভণিতা করলেন না। বলেই দিলেন, ‘হ্যাঁ, শুনেছি আমরা। খুবই ভালো লাগছে। গর্ব হচ্ছে আজ।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এককালে এই বাউল ভাবধারায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছিলেন। জমিদারি দেখাশোনার কাজে শিলাইদহে থাকাকালীন বাউল সাধকদের সংস্পর্শে আসেন তিনি। বাউলসঙ্গ ও লালন-গগনের গান তাঁকে যে জীবনবোধে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে উপনিষদের বাণী আর বাউলের গান একাকার হয়ে যায়। বয়সকালে শরীরী ভাবে শিলাইদহ-পদ্মা-বাউল-ফকিরদের কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ ক্রমে দূরে সরে গিয়েছিলেন বটে, তবুও একতারার উপস্থিতি তিনি অহরহ অনুভব করেছেন। শান্তিনিকেতন স্থাপনার পরে সেখানে বাউল-ফকির ভাবধারার যে বিকাশ ঘটে, তা-ও কবিগুরুর হাত ধরেই। যদিও ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বীরভূমে বাউল-ফকিরির আগমন অনেক আগেই ঘটেছে। তত দিনে এসে গিয়েছিল একতারাও।