কেন জল ঢালা হয় শিবলিঙ্গে? শিবভক্তদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ কানওয়ার যাত্রা?
শুরু হতে চলেছে শ্রাবণ মাস। আর তারই সঙ্গে উত্তর ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব কানওয়ার যাত্রা। প্রতি বছরের মতো এবারও গঙ্গোত্রী, ঋষিকেশ ও হরিদ্বার থেকে লক্ষ লক্ষ শিবভক্ত গঙ্গাজল নিয়ে দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থানের বিভিন্ন শিবমন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
এই দীর্ঘ যাত্রাপথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গাজ়িয়াবাদ। কারণ এখানেই রয়েছে প্রাচীন দুধেশ্বরনাথ মন্দির। প্রচলিত বিশ্বাস, এখানেই লঙ্কার রাজা রাবণ এবং তাঁর পিতা মহর্ষি বিশ্রবা শিবের কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তাই প্রতি বছর অসংখ্য কানওয়ারি এই মন্দিরে গঙ্গাজল নিবেদন করতে আসেন। এই বছর কানওয়ার যাত্রা শুরু হবে ৩০ জুলাই, এবং শেষ হবে ২৮ অগস্ট।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ দুধেশ্বরনাথ মন্দির?
গাজ়িয়াবাদের এই প্রাচীন শিবমন্দিরের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বহু আস্থা বিশ্বাস। কথিত, রাবণ ও তাঁর পিতা এখানেই শিবের আরাধনা করেছিলেন। শ্রাবণ মাসে কানওয়ার যাত্রার সময় তাই লক্ষাধিক ভক্ত এখানে জলাভিষেক করতে আসেন।
ভক্তরা তাদের কাঁধে বাঁক চাপিয়ে পবিত্র জলের কলসি বহন করেন। ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ-সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে বা মিরাটের পুরো মহাদেব এবং অঘোরনাথ মন্দির, বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির, ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বৈদ্যনাথ ধামের মতো নির্দিষ্ট মন্দিরগুলোতে তীর্থযাত্রীরা শিব লিঙ্গের পুজো করতে জল ব্যবহার করেন।
ভক্তরা নিজের গ্রামে বা শহরেও শিবমন্দিরে গিয়ে শিবের মাথায় জল ঢালেন। বাংলাতেও ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ভিড় করেন হুগলী জেলার তারকেশ্বর মন্দিরে। গঙ্গার আশপাশের এলাকায় এই শিব পুজোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।