মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারি বিতর্কে নতুন মোড়, সরব নিউ ইয়র্কের মেয়র
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়। নিউ ইয়র্কের মেয়রের মন্তব্যের পর ফিফার তদন্ত ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) আর্জেন্টিনা ও মিশরের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ শেষ হয়েছে দু’দিন আগে। কিন্তু সেই ম্যাচকে ঘিরে বিতর্কের আগুন এখনও নিভে যায়নি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন ততই জোরালো হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনা এখন কেবল সামাজিক মাধ্যম বা ক্রীড়ামহলেই সীমাবদ্ধ নেই; রাজনৈতিক মহলেও এর রেশ পৌঁছে গিয়েছে।
ম্যাচে মিশর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে খেলেছিল। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত তারা ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় আর্জেন্টিনা তিনটি গোল করে ম্যাচটি ৩-২ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয়। এই প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মিশরের সমর্থক ও সাবেক ফুটবলারদের একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।
Also Read |
এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। একটি জনসভায় নগর উন্নয়ন ও রাস্তা সম্প্রসারণের সুফল নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রসিকতার সুরে ম্যাচটির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর কথায়, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষকে পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ দেবে, আবার বন্ধুদের সঙ্গে বসে এ নিয়েও আলোচনা করার অবকাশ করে দেবে যে মিশরের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। উপস্থিত জনতা তাঁর মন্তব্যে হাসি ও করতালিতে সাড়া দেয়। তবে সেই মন্তব্য বিশ্বকাপের রেফারিং বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
ম্যাচের পর মিশর শিবিরও ক্ষোভ চেপে রাখেনি। দলের ফুটবলাররা প্রকাশ্যে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ জানান। এরপর দেশটির ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, ম্যাচ চলাকালীন কয়েকটি সিদ্ধান্ত মিশরের বিরুদ্ধে গিয়েছে এবং সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেফারি ও তাঁর সহকারীদের বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
Also Read |
ফিফা সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ, রেফারির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং চলতি আসরের অন্যান্য ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে। ফিফার রেফারিং বিভাগ এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে ওই রেফারির দায়িত্ব নির্ধারিত হতে পারে।
অবশ্য ফুটবল ইতিহাসে রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও নানা বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু কড়া শাস্তি বা দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার নজির খুব কম। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রশ্নটি আবারও সামনে চলে এসেছে। ফলে তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে ফুটবলবিশ্ব। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে রেফারিং ব্যবস্থায় আরও প্রযুক্তি ও জবাবদিহি যুক্ত করার দাবি জোরালো হওয়াটাও স্বাভাবিক।
Also Read |