বিশ্বকাপের নকআউটে টিকিটের দামে ধস, মেসির আর্জেন্টিনাতেই ভরসা সমর্থকদের
নকআউট পর্বে একাধিক ম্যাচের টিকিটের দাম কমেছে। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও তারকা দলগুলির বিদায়ের পর এখন মেসির আর্জেন্টিনার ম্যাচেই বাড়ছে সমর্থকদের আগ্রহ।
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) নকআউট পর্ব ঘিরে সাধারণত টিকিটের জন্য হাহাকার দেখা যায়। কিন্তু এবার চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। প্রতিযোগিতা যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই বেশ কয়েকটি ম্যাচের টিকিটের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যাচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মতে, আয়োজক দেশের বিদায় এবং একাধিক তারকা ফুটবলারের দল ছিটকে যাওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। এখন অনেকেরই বিশ্বাস, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা যতদিন টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে, ততদিনই গ্যালারির উন্মাদনা ও টিকিটের চাহিদা আবার বাড়তে পারে।
টিকিট বিক্রির বাজারে দেখা যাচ্ছে, কোয়ার্টার ফাইনালের বহু ম্যাচে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। উদাহরণ হিসেবে স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচের কথা বলা যায়। যে টিকিটের দাম একসময় প্রায় তিন হাজার ডলারের কাছাকাছি ছিল, তা নেমে এসেছে অনেকটাই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারত, তবে স্থানীয় সমর্থকদের চাহিদায় দাম আরও অনেক বেশি থাকত।
একইভাবে পর্তুগালের বিদায়ও বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় সম্ভাব্য হাই-প্রোফাইল ম্যাচ আর হয়নি। রোনাল্ডোর উপস্থিতি থাকলে যে বিপুল সংখ্যক দর্শক মাঠমুখী হতেন, সে বিষয়ে কারও সংশয় নেই। ফলে টিকিটের চাহিদা কমে যাওয়া স্বাভাবিক।
ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের ক্ষেত্রেও তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যদিও দুই দলই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে শেষ আটে পৌঁছেছে, তবু তারকাখচিত লড়াইয়ের অভাব এবং নিরপেক্ষ দর্শকদের তুলনামূলক কম উৎসাহ টিকিটের দামে প্রভাব ফেলেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলিতেও দামের ওঠানামা লক্ষ করা গিয়েছিল। দলটি নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য টিকিটের মূল্য বেড়ে যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দলের বিদায় এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় দাম দ্রুত নেমে আসে। এতে পরিষ্কার, মাঠে কোন দল খেলছে এবং কোন তারকা ফুটবলার উপস্থিত আছেন—এই দু’টি বিষয়ই টিকিটের বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কানাডা ও ব্রাজিলের বিদায়ও পরিস্থিতিকে আরও প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্রাজিল ছিটকে যাওয়ায় নিরপেক্ষ সমর্থকদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে বড় নামের দল ও খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দর্শকদের আকর্ষণের অন্যতম প্রধান কারণ, আর তাদের অনুপস্থিতিতেই এবার টিকিটের বাজারে মন্দা দেখা দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ দেখিয়ে দিল যে কেবল নকআউট পর্বে পৌঁছনোই টিকিটের চাহিদা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। আয়োজক দেশের সাফল্য, জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য হাই-ভোল্টেজ ম্যাচই শেষ পর্যন্ত বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করে। তাই এখন অনেকের নজর আর্জেন্টিনার দিকে, মেসির জাদু কি আবার গ্যালারিকে ভরিয়ে তুলতে পারবে, সেটাই দেখার।