‘আর কখনও থানেতে ফিরব না’, শিবসেনা কাউন্সিলারের হামলার পরে আতঙ্কে চাকরি ছাড়লেন চিকিৎসক - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘আর কখনও থানেতে ফিরব না’, শিবসেনা কাউন্সিলারের হামলার পরে আতঙ্কে চাকরি ছাড়লেন চিকিৎসক

Spread the love

হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধর। ছাড় নেই মহিলা চিকিৎসকেরও। মহারাষ্ট্রের থানের ডোম্বিভলির একটি পুরসভা পরিচালিত হাসপাতালে শিবসেনা কাউন্সিলার ও তাঁর অনুগামীদের চড়াও হওয়ার ঘটনা সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। সেই ঘটনার জেরে আতঙ্কে এ বার চাকরি ছাড়লেন আক্রান্ত চিকিৎসক। শুধু তাই নয়, থানে ছেড়েই চলে গেলেন তিনি। জানালেন, ওই আতঙ্কের পরিবেশে আর কখনও ফিরবেন না।

৬ জুলাই ডোম্বিভলির কল্যাণ-ডোম্বিভলি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KDMC) পরিচালিত শাস্ত্রী নগর হাসপাতালের ঘটনা। গোলমালের সূত্রপাত এক নবজাতককে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নবজাতকের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (NICU)-এ শয্যা খালি না থাকায় শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন দুই চিকিৎসক । এর পরেই শিশুর পরিবারের সদস্যরা শিবসেনা কাউন্সিলার রমেশ মাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অনুগামীদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রমেশ মাত্রে এবং তাঁর দলবল হাসপাতালে ঢুকেই চিকিৎসকদের সঙ্গে তীব্র গালিগালাজ ও তর্কাতর্কি শুরু করেন। এর পরেই আচমকা তাঁরা চিকিৎসাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন।

আক্রান্ত চিকিৎসক বলেন, ‘হাসপাতালের ওই ঘরে আমিই একমাত্র পুরুষ ডাক্তার ছিলাম, তাই আমি ওদের ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’ হয়ে যাই। আমার মুখে, মাথায়, বুকে এবং পেটে ওরা ক্রমাগত ঘুষি মারতে থাকে। হাসপাতালের বড় রেজিস্টার খাতা দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করা হয়। এক মহিলা ডাক্তার যখন সিনিয়রদের ফোন করার চেষ্টা করছিলেন, রমেশ মাত্রে তাঁর হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দিয়ে ফেলে দেন। নার্স এবং হাসপাতালের অন্য কর্মীদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি।’ ওরা হাসপাতালের জিনিসপত্র এবং অক্সিজেন স্টোরেজ এলাকাতেও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওই শিবসেনা কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রমেশ মাত্রে এক মহিলা চিকিৎসককে চড় মারছেন। তাঁর অনুগামীরাও হাসপাতালের কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে যান। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও ওঠে।

এমন পরিস্থিতিতে সাংঘাতিক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রহৃত চিকিৎসক। তার জন্যই চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রবল ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমি থানে ছেড়ে চলে এসেছি। আর কখনও ফিরে যাব না।’ তাঁর অভিযোগ, হামলার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

জনরোষের মুখে পুলিশ রমেশ মাত্রেকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের উপরে হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরে অসুস্থ হয়ে পড়ার দাবি করেছেন মাত্রে। এই কারণে তাঁকে থানে সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকদের আন্দোলনের পর KDMC কর্তৃপক্ষ হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেয়। সেই আশ্বাসের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসকরা কাজে ফিরলেও, হামলার শিকার এক চিকিৎসকের ইস্তফা ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *