দেবরাজ-তদন্তে স্ক্যানারে এ বার পুর ইঞ্জিনিয়ারও, ঘনিষ্ঠদের তলব
এই সময়: বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার ও মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর তোলাবাজি ও আয়–বহির্ভূত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে স্ক্যানারে এ বার বিধাননগর পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের এক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। পুলিশ সূত্রে খবর, বেআইনি নির্মাণ ও বিল্ডিং প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে ওই ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের প্রয়োজনে চলতি সপ্তাহেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ডেকে পাঠানো হতে পারে। বিজেপি আগেই অভিযোগ তুলেছিল, বিধাননগর পুরনিগমের কয়েক জন অফিসারের সাহায্য নিয়েই বেআইনি নির্মাণে মদত দিয়ে তোলাবাজি করেছেন দেবরাজ।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃত নেতার ‘তোলার টাকা’ বা তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অর্থ কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার সূত্র খুঁজে বের করতে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার নন, দেবরাজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা ব্যক্তিদের সম্পত্তির পরিমাণ ও উৎসও খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে ওই ঘনিষ্ঠদেরও ডেকে বয়ান রেকর্ড করা হবে।
আয়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটাও জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। একটি সূত্রের দাবি, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা নিশ্চিত করতে এখনও পর্যন্ত বিধাননগর এবং দক্ষিণ দমদমের ১২ জন তৃণমূল নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। তালিকায় রয়েছেন আরও ২০ জন। ‘তোলার টাকা’র ভাগ কার কার কাছে পৌঁছত, তা নির্দিষ্ট করাই এখন মূল লক্ষ্য।
গ্রেপ্তারের পরে দেবরাজের কাছ থেকে যে মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার হয়েছে, সেগুলির কল ডিটেলস রেকর্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি খতিয়ে দেখে একাধিক প্রভাবশালী ও সরকারি আধিকারিকের নাম সামনে আসছে বলে সূত্রের খবর। মঙ্গলবারও দেবরাজের ঘনিষ্ঠ ৪ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)–এর অফিসাররা। তাঁদের থেকে বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের।
বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ, ‘সুসংগঠিত তোলাবাজি–চক্র কাজ করেছে বাগুইআটি–কেষ্টপুর এলাকায়। যার নেতৃত্ব দিয়েছেন দেবরাজ। সাহায্য করেছেন তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলার। ঠিকমতো এগোলেই সব সামনে আসবে।’ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক অফিসার বলেন, ‘যা তথ্য হাতে এসেছে তা থেকে এটা স্পষ্ট, দুর্নীতির জাল অনেক গভীর পর্যন্ত ছড়িয়ে। বিস্তারিত তথ্য পেতে যা যা করণীয় সবই করা হচ্ছে।’