China Anti-Torpedo System: ট্রাম্পকে চমকে জলে নামল প্রথম 'অ্যান্টি-টর্পেডো' চিনা যুদ্ধজাহাজ | China integrates worlds first hard kill anti torpedo system - 24 Ghanta Bangla News
Home

China Anti-Torpedo System: ট্রাম্পকে চমকে জলে নামল প্রথম ‘অ্যান্টি-টর্পেডো’ চিনা যুদ্ধজাহাজ | China integrates worlds first hard kill anti torpedo system

Spread the love

প্রতিরক্ষা খাতে জলের মতো টাকা খরচ করছে চিন। তৈরি করছে একের পর এক এমন সব অস্ত্র, যা এর আগে কেউ কখনও চোখে দেখেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চমকে দিয়ে এবার বিশ্বের প্রথম অ্যান্টি-টর্পেডো সিস্টেম-সহ যুদ্ধ-জাহাজ বানিয়ে ফেলল বেজিং। চিনা প্রযুক্তি তোলপাড় ফেলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট-কেরিয়ার ইন্ডাস্ট্রি-তেও। মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের হামলা এখন অনায়াসেই রুখে দিতে পারবে লাল ড্রাগন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে জলে নামল আধুনিক চিনের তুরুপের তাস ‘ফুজিয়ান’

Anti Torpedo (2)

চিনের তুরুপের তাস ‘ফুজিয়ান

আকাশে লড়ায়ের জন্য সিক্সথ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান চেংড়ু জে-৩৭-এর এক ঝলক বেজিং আগেই দেখিয়েছে। ফ্লাইট টেস্টিং চলছে আরেক অত্যাধুনিক বিমান শ্যেন-ইয়াং জে ৫০-রও। এই দুটো বিমানই তাদের স্টেলথ টেকনোলোজির জন্য মাঝ আকাশে কার্যত ‘গায়েব’ হতে পারে। কিন্তু জলের নিচে লড়াইয়ে আমেরিকাকে কিছুতেই এতদিন মাত দিতে পারছিল না বেজিং। কিন্তু এবার, শক্তিশালী মার্কিন সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজকে নাস্তানাবুদ করতে এবার জলেও চূড়ান্ত প্রস্তুত চিন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি রিপোর্টের চাঞ্চল্যকর দাবি, চীনের নতুন এবং সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘ফুজিয়ান’ (Fujian)-এ যুক্ত হতে চলেছে বিশ্বের প্রথম হাইটেক ‘অ্যান্টি-টর্পেডো সিস্টেম’ (Anti-Torpedo System)। সহজ ভাষায়, টর্পেডো হল জলের তলার মিসাইল। চীনের দাবি, এই নতুন যুদ্ধজাহাজে এমন এক প্রযুক্তি থাকছে যা জল ফুঁড়ে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের টর্পেডো হামলাকে মাঝরাস্তাতেই ধ্বংস করে দেবে। যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে চীনই হবে বিশ্বের প্রথম দেশ যারা কোনও বিমান বহন করতে পারে এমন যুদ্ধজাহাজে বা Aircraft Carrier- এ এই ধরনের রক্ষাকবচ বসাচ্ছে।

Anti Torpedo (2) (2)

কী রয়েছে এই ‘অ্যান্টি-টর্পেডো সিস্টেম’ চিনা ফুজিয়ানে?

  • ৩ সেকেন্ডে ৬০ নট গতিবেগে অ্যান্টি-টর্পেডো হামলা
  • জলের নিচে মার্কিন টর্পেডো MK-৪৮-কেও নাকাল
  • ‘সোনার’ সিস্টেম দূর থেকে আসা হামলার আগাম সঙ্কেত দেবে
  • এশিয়া-জুড়ে মার্কিন নৌসেনার একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ চিনের
  • সম্পূর্ণ চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি সেনার তৃতীয় এয়ারক্রাফট কেরিয়ার

কিন্তু হঠাৎ ট্রাম্পকে চমকাতে চিনের এত তোড়জোড় কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, জলের নিচে লড়াইয়ে মার্কিন নিউক্লিয়ার সাবমেরিন বা পারমাণবিক ডুবোজাহাজগুলি চাইনিজ নেভির জন্য বড় মাথাব্যথা। জলপথের দখল নিতে চীন যতই বড় যুদ্ধজাহাজ নামাক না কেন, আমেরিকার সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া একটি টর্পেডোই সেই সাধের জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর ঠিক এই জায়গাতেই মোক্ষম চাল চালল বেজিং। মার্কিন নৌসেনার সি-উলফ ক্লাস ও SSN ক্লাস সাবমেরিনকে সরাসরি যুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে ফুজিয়ান। এই জাহাজের পেট ফুঁড়ে মাত্র ৩ সেকেন্ডে ৬০ নট গতিবেগে অ্যান্টি-টরপেডো হামলা করা যাবে। এর আগে কার চিনা যুদ্ধজাহাজগুলো টর্পেডোকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করত। পাশ কাটানোর চেষ্টা করতো। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেম ফাঁকি দেবে না, বরং ধেয়ে আসা শত্রুর মিসাইলের গায়ে গিয়ে সরাসরি আছড়ে পড়বে এবং সেটিকে জলের তলাতেই উড়িয়ে দেবে।

Anti Torpedo (2) (1)

ভারত ও আমেরিকার উদ্বেগ

চীনের এই নয়া প্রযুক্তিতে আমেরিকা তো বটেই, ভারতও খানিকটা চাপে পড়তে পারে। ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের একাধিপত্য আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় ৮০ হাজার টন ওজনের এই দানবাকৃতির ফুজিয়ান যুদ্ধজাহাজ এতটাই আধুনিক যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজগুলোর সাথে এর তুলনা করা হচ্ছে। যুদ্ধবিমান ওড়ানোর জন্য এতে রয়েছে অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটা-পুল্ট প্রযুক্তি। অনেকটা গুলতির মতো। তার সঙ্গে অপরাজেয় প্রতিরক্ষাকবচ। ফুজিয়ানের পেটেই থাকবে-

১. ফিফ্থ জেনারেশনের J-35 স্টেলথ ফাইটার জেট

২. J-15T মাল্টিরোল ফাইটার জেট

৩. KJ-600 এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং বা AEW এয়ারক্রাফট

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই নতুন প্রযুক্তির পর ‘ফুজিয়ান’-কে সমুদ্রের বুকে ডুবানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। এক ডজন টিউব থেকে চোখের নিমেষে শত্রুর উপরে মিসাইল হামলা লঞ্চ করতে পারবে চিনা ফুজিয়ান। তাই ভবিষ্যতে সমুদ্রপথে যুদ্ধ হলে শেষ পর্যন্ত কার দাপট বজায় থাকবে, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে পারদ চড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *