Susmita Roy: অবশেষে স্বপ্নপূরণ, মা হলেন সুস্মিতা, হাসপাতাল থেকে স্বামীকে কী জানালেন? | Susmita roy becomes mother shares babbies Face
কটাক্ষ, বিতর্ক আর সব নেতিবাচক মন্তব্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন জীবনে পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। চলতি বছরের শুরুর দিকেই ব্যবসায়ী পার্টনার শুভাশিস দে-র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। তবে সব ঝড়ঝাপটার মাঝেও মা হওয়ার অদম্য ইচ্ছেটাকে মরতে দেননি। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—পূর্ণতা পেল সুস্মিতার মাতৃত্বের স্বাদ। সুস্মিতার স্বপ্ন হল পূরণ। দম্পতির ঘর আলো করে ছেলে এল নাকি মেয়ে?
হাসপাতালের বিছানা থেকে সোশাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন ছবি ভাগ করে নিয়েছেন নতুন মা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে—স্বামী শুভাশিসের হাতের ওপর রাখা সুস্মিতার হাত, আর তার ওপর আলতো করে রাখা তাঁদের সদ্যোজাতর এক ছোট্ট হাত।
ছবিটির ক্যাপশনে অতীতের সব ক্ষত আর লড়াইয়ের কথা উজাড় করে দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, “মা হলাম, ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ যে স্বপ্নটা থেমে গিয়েছিল, আজ যেন তারই নতুন করে শুরু। দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষা, লড়াই, অগণিত কষ্ট আর না-পাওয়ার যন্ত্রণার পর আজ আমি মাতৃত্বের স্বাদ পেলাম। এটা কোনও শারীরিক অক্ষমতার লড়াই ছিল না, ছিল সময়, পরিস্থিতি আর অনেক অদৃশ্য বাধার বিরুদ্ধে এক নিরন্তর সংগ্রাম।”
প্রথম সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা যে আজও তাঁর মনে দগদগে, সে কথা লুকিয়ে রাখেননি সুস্মিতা। আর সেই কারণেই হয়তো এবার পুরো বিষয়টিকে আড়ালে রেখেছিলেন। তাঁর কথায়, গতবার সবটা ভাগ করে নিলেও, এবার সব কু-নজর আর অভিশাপকে হারিয়ে, সব শুভশক্তির আশীর্বাদে একবারে সন্তানের জন্মের দিনই সবাইকে সুখবরটা দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ে স্বামী শুভাশিস কীভাবে তাঁর শক্তি হয়ে পাশে ছিলেন, তা-ও অকপটে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সুস্মিতা লিখেছেন, যখন অনেকেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন বা চাননি তিনি মা হন, তখন পাহাড়ের মতো অবিচল থেকেছেন শুভাশিস। যখন সুস্মিতা ভেবেছিলেন ‘মা’ ডাক শোনার ভাগ্য হয়তো তাঁর আর কোনওদিন হবে না, তখন শুভাশিস তাঁর স্বপ্নকে নিজের করে আগলে রেখেছেন। স্বামীর ভালোবাসা ও বিশ্বাসই আজ তাঁর মাতৃত্বের পূর্ণতার সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
সুস্মিতা তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ করেননি। তবে খুশির এই খবর আসতেই অনুরাগী মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার ঢল নেমেছে। কমেন্ট বক্স ভরে উঠেছে অনুরাগীদের ভালোবাসা ও আন্তরিক প্রার্থনায়। কেউ নবজাতককে আশীর্বাদে ভরিয়ে দিয়েছেন, তো কেউ আবার নতুন বাবা-মায়ের আগামী দিনগুলোর মঙ্গল কামনা করেছেন।