দুদিনের সফরে ইন্দনেশিয়ায় মোদী! দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা
নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু দিনের সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া রওনা হয়েছেন (Modi)। এই সফরকে দু’দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে…
নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু দিনের সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া রওনা হয়েছেন (Modi)। এই সফরকে দু’দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।
আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য, জ্বালানি, সাইবার সিকিউরিটি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিকভাবেও গভীর। এই সফর দু’দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধনকে আরও মজবুত করবে।”
আরও দেখুনঃ ধসের কবলে মুম্বই-পুণে রুট, বাতিল একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন: জেনে নিন আপডেট
ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি এবং জনসংখ্যায় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ইন্দোনেশিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা একটি বড় আলোচ্য বিষয় হবে। সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসতে পারে।
ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোস ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। ইন্দোনেশিয়া ইতিমধ্যেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। এই সফরে সেই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও এই সফরের অন্যতম মূল ফোকাস।
আরও দেখুনঃ ইভির উপর জোর ২০৩০ র মধ্যে তেল কেনায় ১লক্ষ সাশ্রয় চায় মোদী সরকার
বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। উভয় পক্ষ এটিকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাম অয়েল, কয়লা, নিকেলের মতো সম্পদে সমৃদ্ধ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈচিত্র্যকরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে। এছাড়া আইটি, ফার্মা, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ভারতের কল্পক্কমে চালু বিশ্বের প্রথম নিউক্লিয়ার তাপ-ভিত্তিক হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র
দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধনও অত্যন্ত গভীর। বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার প্রভাব ইন্দোনেশিয়ার অনেক জায়গায় এখনও স্পষ্ট। বালি দ্বীপের সংস্কৃতি তার উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পর্যটন খাতেও আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দু’দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ভিসা সহজীকরণ এবং সরাসরি ফ্লাইট বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে আসতে পারে।