ক্যান্সারে এক চোখ হারিয়েছেন, সেঞ্চুরি পার করলেও মানুষের ভরসা কালী ডাক্তার
১৯২৭ সালের ৫ মে বর্ধমানের ছোট বহরকুলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কালীগোপাল মুখোপাধ্যায়। বাবা পাঁচু গোপাল মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন ডাক্তার। ইংরেজ আমলের গোল্ড মেডেলিস্ট চিকিৎসক। বাবার অনুপ্রেরণাতেই এই পেশায় আসা তাঁর। বর্ধমানের স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে উচ্চশিক্ষায় চিকিৎসার জন্য আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পান। সেখান থেকে এম বি বি এস এবং ডিটিএম অ্যান্ড এইচ ডিগ্রি অর্জন করে চিকিৎসা জগতে এসেছিলেন। ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৬— তাঁর রুটিনে বদল হয়নি।
তবে চিকিৎসকের জীবনেও পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় মারণ রোগ। ক্যান্সার কেড়ে নিয়েছে বাম চোখটি। কিন্তু, এই মারণ রোগ থামাতে পারেনি কালীগোপালকে। এখনও শক্ত হাতে রোগী দেখেন প্রত্যহ। বয়সের ভারে নানা সমস্যা বাসা বেঁধেছে শরীরে। তবে তিনি অবিচল, সেবাদানের কর্তব্যে বিরামহীন। শুক্রবার বাদে সপ্তাহের বাকি ছয় দিন দিন-রাত রোগী দেখেন। সুস্থ হয়ে ওঠার মন্ত্র শেখান। তাঁর কথায়, ‘ডাক্তারি করছি অনেক দিন ধরেই। কত বছর মনে নেই। এখনও রোগীরা আসে আমার কাছে। আগের মতো এখন আর পারিনা। আমার শরীর খারাপ নয় ,আমার শরীর ভালো রয়েছে। কোনওদিন পাঁচটি তো কোনওদিন ১৫টি রোগী দেখি।’